মুম্বই: কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় এবং পেনশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কর্মচারী ভবিষ্যনিধি (EPF)-এর আওতায় বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্ধারিত মাসিক বেতনের সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রক সম্মতি দিয়েছে। তবে এই পরিবর্তন এখনও কার্যকর হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে নতুন নিয়ম ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে। যদিও সরকার এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি এবং কার্যকর হওয়ার চূড়ান্ত তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
বর্তমানে Employees’ Provident Fund (EPF) এবং Employees’ Pension Scheme (EPS)-এর আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত হন সেই সমস্ত কর্মচারী, যাঁদের মূল মাসিক বেতন ১৫,০০০ টাকা বা তার কম। এর বেশি বেতন হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে EPF-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ১৫,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা মাসিক মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীরাও বাধ্যতামূলকভাবে EPF এবং EPS-এর আওতায় চলে আসবেন। ফলে আরও বেশি সংখ্যক কর্মী ভবিষ্যনিধি ও পেনশনের সুবিধা পাবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথমদিকে ব্যয়ের দফতর (Department of Expenditure) বেতনসীমা ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২৫,০০০ টাকার প্রস্তাবেই সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
যদিও প্রস্তাবটি অনুমোদনের পথে রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ নতুন নিয়ম চালু করার আগে বিভিন্ন সংস্থাকে তাদের পে-রোল সফটওয়্যার, কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেই কারণে সরকার সংস্থাগুলিকে প্রস্তুতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে সরকারের আর্থিক ব্যয়ও বাড়তে পারে। বর্তমানে কর্মচারীদের পেনশন তহবিলে নিয়োগকর্তা মূল বেতনের ৮.৩৩ শতাংশ এবং কেন্দ্র সরকার ১.১৬ শতাংশ অবদান রাখে। নতুন বেতনসীমা কার্যকর হলে EPS-এর আওতায় আরও বেশি কর্মী আসবেন। ফলে সরকারের মোট আর্থিক অবদান বাড়বে, যদিও অবদানের হার অপরিবর্তিত থাকবে।
অন্যদিকে, নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রেও ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। কারণ ১৫,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা বেতনপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্যও EPF ও EPS-এ বাধ্যতামূলক অবদান রাখতে হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, EPF-এর বেতনসীমা শেষবার সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন তা ৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ টাকা করা হয়। প্রায় এক যুগ পর ফের এই সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, এটি এখনও একটি প্রস্তাব মাত্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে এবং সেক্ষেত্রেই চূড়ান্ত বাস্তবায়নের তারিখ নিশ্চিত হবে।
