মেয়াদোত্তীর্ণ Diet Coke বিক্রি, বেকারিকে ১৫,১৬০ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কমিশনের

একজন গ্রাহকের কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ডায়েট কোকের (Diet Coke) চারটি ক্যান বিক্রি করার ঘটনায় একটি বেকারিকে ১৫,১৬০ টাকাপরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন।…

consumer-commission-orders-bakery-compensation-expired-diet-coke-sale

একজন গ্রাহকের কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ডায়েট কোকের (Diet Coke) চারটি ক্যান বিক্রি করার ঘটনায় একটি বেকারিকে ১৫,১৬০ টাকাপরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বা পানীয় বিক্রি করা পরিষেবায় ত্রুটি (Deficiency in Service) হিসেবে গণ্য হবে এবং এই ধরনের ক্ষেত্রে দায় বিক্রেতার, প্রস্তুতকারক সংস্থার নয়।

Advertisements

১৪ জুলাই দেওয়া রায়ে কমিশন জানায়, Coca-Cola India এই মামলায় বিক্রেতা ছিল না। তাই শুধুমাত্র তাদের ব্র্যান্ডের পণ্য হওয়ার কারণে সংস্থাটিকে দায়ী করা যায় না। অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে Coca-Cola India-র বিরুদ্ধে।

   

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারী ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে Dhanusri Bengaluru Bakery থেকে চারটি Diet Coke-এর ক্যান ১৬০টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। বাড়িতে গিয়ে একটি ক্যান খোলার পর তিনি দেখতে পান, সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৯ আগস্ট ২০২৫-এ। অর্থাৎ, কেনার প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই পণ্যটির ব্যবহারযোগ্যতা শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বেকারির মালিকের সঙ্গে কথা বললে মালিক নাকি বিষয়টি চেপে যেতে ২,০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। বরং বাকি তিনটি ক্যান সংরক্ষণ করেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন।

অন্যদিকে, Coca-Cola India কমিশনের সামনে জানায়, সংশ্লিষ্ট পানীয় তারা সরাসরি উৎপাদন বা বিক্রি করেনি। সংস্থার বক্তব্য, অনুমোদিত স্বাধীন বটলাররা এই পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করে। এছাড়া Food Safety and Standards Act অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির দায় বিক্রেতার ওপরই বর্তায়।

Advertisements

কমিশনের বেঞ্চ, যেখানে সভাপতি জি. নাগারাজু এবং সদস্য বি. রাজি রেড্ডি ছিলেন, মামলার নথি খতিয়ে দেখে জানায়, অভিযোগকারী যে বেকারি থেকে পণ্যটি কিনেছিলেন, তা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ার পর তিনি পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন।

কমিশন আরও উল্লেখ করে, বেকারির মালিক ও কর্মচারীকে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁরা কমিশনের সামনে হাজির হননি এবং অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনও জবাবও দেননি। ফলে অভিযোগকারীর উপস্থাপিত প্রমাণের কোনও খণ্ডন করা সম্ভব হয়নি।

রায়ে কমিশন জানায়, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি করার জন্য পরিষেবায় ত্রুটির দায় শুধুমাত্র বিক্রেতার ওপর বর্তায়। একই সঙ্গে Coca-Cola India-র যুক্তি গ্রহণ করে কমিশন জানায়, প্রস্তুতকারক বা ব্র্যান্ড মালিক সরাসরি বিক্রেতা না হলে শুধুমাত্র তাদের ট্রেডমার্ক থাকার কারণে আইনি দায় চাপানো যায় না।

রায়ে কমিশন বেকারির মালিক ও কর্মচারীকে যৌথভাবে ১৬০ টাকাপণ্যের মূল্য ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মানসিক হয়রানির জন্য ₹১০,০০০ ক্ষতিপূরণ এবং মামলার খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকাদেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে, বেকারিকে ১০,০০০ টাকা তেলঙ্গানা স্টেট কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশনের Consumer Welfare Fund-এ জমা দিতে হবে।

এই রায়ে ভোক্তা কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বা পানীয় বিক্রি করলে তার দায় এড়ানো যাবে না। বিক্রেতাদের প্রতিটি পণ্যের মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের আইনি দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও কেনাকাটার সময় পণ্যের Expiry Date দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।

Advertisements