লোকসভায় ISI বিল পেশ, কলকাতা ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের বিক্ষোভ

কলকাতা: ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সোমবার লোকসভায় Indian Statistical Institute Bill, 2026 পেশ…

indian-statistical-institute-bill-2026-lok-sabha-isi-kolkata-protest

কলকাতা: ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সোমবার লোকসভায় Indian Statistical Institute Bill, 2026 পেশ করেছে কেন্দ্র সরকার। একই সময়ে কলকাতার বিটি রোড (BT Road)-এ অবস্থিত ISI-র মূল ক্যাম্পাসে ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কোনও সুসংগঠিত আলোচনা ছাড়াই বিলটি আনা হয়েছে।

Advertisements

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রী রাও ইন্দরজিৎ সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। তিনি বলেন, এই আইন কার্যকর হলে ৯৫ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামো তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে ISI-কে পরিসংখ্যান বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে।

   

তবে বিলটি পেশের সময় সংসদে বিরোধী দলের সাংসদদের স্লোগান ও বিক্ষোভ চলছিল। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পুনরায় উপস্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে, দিল্লি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে কলকাতার R.A. Fisher Building-এর সামনে ISI-র ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষক, ছাত্র এবং কর্মীদের সঙ্গে কোনও কাঠামোবদ্ধ আলোচনা ছাড়াই বিলটি আনা হয়েছে।

Advertisements

Also Read |  NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?

প্রতিবাদকারীদের আশঙ্কা, বর্তমান খসড়া আইনে প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি বিনা টিউশন ফিতে শিক্ষা প্রদান এবং ছাত্রদের স্টাইপেন্ড ব্যবস্থা ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও তাঁদের দাবি।

১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট পরিসংখ্যান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার জন্য পরিচিত। বর্তমানে কার্যকর Indian Statistical Institute Act, 1959 বাতিল করে তার পরিবর্তে নতুন আইন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, তথ্যনির্ভর (Data-driven) অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী আইনি কাঠামো আধুনিক করাই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য।

লোকসভায় বিলটি পেশ হওয়ার পর কংগ্রেসের মনীশ তিওয়ারি, জি. কে. পদভি ও বিশাল পাটিল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিমা মণ্ডল ও সৌগত রায় এবং ডিএমকে-র ডি. এম. কাথির ও টি. সুমাথি বিলের বিরোধিতায় নোটিস জমা দেন।

Also Read |  পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

এই বিল নিয়ে শিক্ষাবিদদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হল ISI-র সদর দফতরের অবস্থান। প্রাথমিক খসড়া প্রকাশের পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, কলকাতা থেকে সদর দফতর সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত দ্বিতীয় খসড়ায় কলকাতাকেই সদর দফতর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা বর্তমান বিলে সদর দফতরের অবস্থান নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই।

সোমবারই শান্তিস্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কারপ্রাপ্ত চার বিজ্ঞানী মন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাল চৌধুরী, দেবাশিস গোস্বামী, পলাশ সরকার (ISI) এবং রজত এস. হাজরা (লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়)। তাঁদের বক্তব্য, বিলের বর্তমান রূপ একাডেমিক স্বাধীনতা এবং বিশ্বমানের গবেষণার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এছাড়া বিহারের কারাকাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজা রাম সিং-ও বিলটি সংসদের স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়ার পরই এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে এগোনো উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান অবস্থায় বিলটি পাস হলে দেশের শিক্ষা ও গবেষণার ঐতিহ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

সরকারি সূত্রের দাবি, ISI-র ডিরেক্টর অমর্ত্য কুমার দত্ত-ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে শিক্ষক, ছাত্র এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে, সোমবার ISI-র কয়েকজন শিক্ষক কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি-র সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার তাঁরা কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ-এর সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

বর্তমানে বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি একাডেমিক মহলেও আলোচনা তীব্র হয়েছে। একদিকে কেন্দ্র সরকার বলছে, নতুন আইন ISI-কে ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। অন্যদিকে শিক্ষক, ছাত্র এবং গবেষকদের একাংশের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার স্বাধীনতা বজায় রাখতে বিলটি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

Advertisements