শিলিগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh)উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সোমবার শিলিগুড়িতে পৌঁছে তিনি দার্জিলিংয়ের সাংসদ শ্রী রাজু বিস্তার বাড়িতে প্রাতরাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, পূর্ণিয়ার কসবা থেকে বিধায়ক নিতেশ সিং, নবীন নবীনসহ অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রাতরাশের পর মন্ত্রী অর্জুন সিং মংপুর উদ্দেশে রওনা দেন।
সেখানে সিনকোনা চাষ অধিদফতর পরিদর্শন এবং চা বাগান শ্রমিকদের সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাংসদ, বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh)নিজেই এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, শিলিগুড়িতে পৌঁছে রাজু বিস্তার বাড়িতে প্রাতরাশ করেছেন এবং পরে মংপুর দিকে যাত্রা করেছেন। এই সফরকে উত্তরবঙ্গের চা শিল্প এবং শ্রমিকদের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ বিশ্বে প্রথম বিদ্যুৎ চালিত ডবল স্ট্যাক ট্রেন চালিয়ে ইতিহাস ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভারতের
দার্জিলিং চা তার অনন্য স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান শ্রমিকরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। ন্যূনতম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাসস্থান, পেনশন এবং বাগান বন্ধ হওয়ার কারণে কর্মহীনতা এসব ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে চলছে। মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh)এই সফরে এইসব বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মংপুতে সিনকোনা অধিদপ্তর পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, চা বাগান মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হবে।
অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh)এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। উত্তরবঙ্গে বিজেপি এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তিনি শ্রমিক কল্যাণের বার্তা দিতে চাইছেন। শিলিগুড়ি থেকে মংপু যাওয়ার পথে স্থানীয় জনগণের সঙ্গেও তাঁর কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে।চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
আরও দেখুনঃ বিদেশ যাত্রার অনুমতি, অভিষেকের মামলা হাইকোর্টে ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট
বাগানগুলোতে নিয়মিত মজুরি প্রদান, বকেয়া মেটানো, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উঠছে। মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে এই বৈঠকে এসব ইস্যুতে কংক্রিট সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সিনকোনা চাষ অধিদপ্তর পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি ওষুধ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এই খাতের বর্তমান অবস্থাও খতিয়ে দেখবেন।
