নয়াদিল্লি: বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন সংস্থা, অ্যাডভোকেসি গোষ্ঠী, তথ্য প্রচার নেটওয়ার্ক, থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক, একাডেমিক সহযোগিতা এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। সেই প্রেক্ষাপটেই Foreign Contribution (Regulation) Act (FCRA)-এ একাধিক সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য বিদেশি অর্থায়নের উপর আরও কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে বিদেশি অর্থে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
কেন আনা হচ্ছে সংশোধন?
নিরাপত্তা মহলের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের ঘটনায় বিদেশি অর্থায়নের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। তাদের মতে, বিদেশি অর্থের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক মতামত গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং গণআন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, তাই বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি তহবিলকে শুধু দাতব্য অনুদান হিসেবে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে।
সংশোধনের মূল লক্ষ্য
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংশোধনের পাঁচটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:
• বিদেশি অর্থে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সীমিত করা।
• বিদেশি তহবিলে তৈরি স্কুল, হাসপাতাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া সেন্টার বা অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় রাখা।
• বিদেশি অর্থের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে নজরদারি ও আইনি জবাবদিহিতা বাড়ানো।
• বিদেশি প্রভাব বিস্তারের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক চিহ্নিত ও প্রতিরোধে নিরাপত্তা সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি।
• আইন ভাঙার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা বাড়ানো।
বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পদের উপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থার FCRA নিবন্ধন বাতিল, আত্মসমর্পণ বা বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পদ অন্য কোনও সংস্থার নামে স্থানান্তর করে আগের মতো ব্যবহার করা যাবে না।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার মনোনীত কর্তৃপক্ষ সেই সম্পদের অস্থায়ী দায়িত্ব নিতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে স্থায়ী ব্যবস্থাও করতে পারবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই প্রবণতা
সরকারি সূত্রের দাবি, এই ধরনের আইন শুধুমাত্র ভারতে নয়, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশেই কার্যকর রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
• যুক্তরাষ্ট্রের Foreign Agents Registration Act (FARA)
• অস্ট্রেলিয়ার Foreign Influence Transparency Scheme Act
• যুক্তরাজ্যের Foreign Influence Registration Scheme (FIRS)
• কানাডার Foreign Influence Transparency and Accountability Act
• ফ্রান্সের Foreign Interference Prevention Law
• ইসরায়েলের NGO Transparency Law
সরকারের মতে, এসব দেশের মতো ভারতও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা, প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং তদন্তের ক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
সরকারের অবস্থান
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, FCRA সংশোধন কোনও বিচ্ছিন্ন আইন প্রণয়ন নয়। বরং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিদেশি অর্থের প্রবাহ, সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপ।
