ড্রোন শিকারি হয়ে উঠছে হেলিকপ্টার, সজ্জিত হবে এআই রাডার ও মাইক্রো-মিসাইলে

ড্রোন ও ‘লোইটারিং মিউনিশন’-এর (loitering munitions) বাড়তে থাকা হুমকির মুখে, ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) তাদের হেলিকপ্টারগুলোকে আকাশপথে ড্রোন-প্রতিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্রের…

IAF

ড্রোন ও ‘লোইটারিং মিউনিশন’-এর (loitering munitions) বাড়তে থাকা হুমকির মুখে, ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) তাদের হেলিকপ্টারগুলোকে আকাশপথে ড্রোন-প্রতিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই হেলিকপ্টারগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত রাডার, মাইক্রো-মিসাইল, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং জ্যামিং পড যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিমানবাহিনীর লক্ষ্য হলো এমন হেলিকপ্টার গড়ে তোলা, যা আকাশে থাকা অবস্থায় ছোট আকারের ও কম উচ্চতায় চলাচলকারী ড্রোন এবং ‘লোইটারিং মিউনিশন’ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।

Advertisements

এই উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টারগুলোকে এআই (AI)-চালিত রাডার দিয়ে সজ্জিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই রাডারগুলো ছোট আকারের এবং কম রাডার ক্রস-সেকশন (radar cross-section) বিশিষ্ট ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সহায়তা করবে। এছাড়া, হেলিকপ্টারগুলোকে মাইক্রো-মিসাইল এবং সামনের দিকে বসানো ২০-মিমি বন্দুক দিয়ে সজ্জিত করার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে। ধীরগতির ড্রোন এবং অন্যান্য ছোট আকাশ-হুমকি ধ্বংস করতে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

   

ড্রোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে জ্যামার
হেলিকপ্টারগুলোতে কেবল ক্ষেপণাস্ত্র ও বন্দুকই নয়, বরং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ-ব্যবস্থাও যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে থাকবে হালকা ওজনের আরএফ (RF) ও জিপিএস (GPS) জ্যামার, যা শত্রুপক্ষের ড্রোনের যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করতে সক্ষম।

এই সিস্টেমগুলোকে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর পডের সাথে সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দিন ও রাত—উভয় সময়েই ছোট ড্রোন শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

Advertisements

২৫ মিটার পর্যন্ত দূরত্বে ‘এয়ার-বার্স্ট’ (বাতাসে বিস্ফোরিত হওয়ার) সক্ষমতা
প্রক্সিমিটি (নৈকট্য-সংবেদনশীল) বা টাইম-ডিলে (সময়-বিলম্বিত) ফিউজ-চালিত মাইক্রো-মিসাইলের ওয়ারহেড বা যুদ্ধাস্ত্রের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এগুলোর লক্ষ্য হলো লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছাকাছি থেকে আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ড্রোন ধ্বংস করা। এমন ওয়ারহেড তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যা আকাশে বিস্ফোরণের পর প্রায় ২৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ার (ফ্র্যাগমেন্টেশন) প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম।

Advertisements