মোদী সরকারের অনুমোদনে বাজারে আসছে ২০০ কোটি পলিমার নোট

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (polymer notes) প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দেশে ₹১০ ও ₹২০ মূল্যমানের পলিমার নোট চালু করার ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে। প্রতিটি…

rbi-polymer-notes-trial

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (polymer notes) প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দেশে ₹১০ ও ₹২০ মূল্যমানের পলিমার নোট চালু করার ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে। প্রতিটি মূল্যমানের ১০০ কোটি করে মোট ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপানো হবে। এই নোটগুলো বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চালু থাকবে।

Advertisements

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো ছোট মূল্যের নোটের দ্রুত ক্ষয় এবং জাল নোট তৈরির ঝুঁকি কমানো। বর্তমানে ₹১০ ও ₹২০ নোট মোট প্রচলিত মুদ্রার মূল্যের মাত্র ১.৩ শতাংশ হলেও এগুলোর লেনদেনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দৈনন্দিন বাজার, ছোট দোকান ও গ্রামীণ এলাকায় এই নোটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। তাই এগুলোকে আরও টেকসই করার প্রয়োজন অনেকদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।

   

আরও দেখুনঃ ম্যাজিস্ট্রেটই দেন গুলি চালানোর নির্দেশ, মন্ত্রী নন: কেন্দ্রের কড়া জবাব রাহুলকে

পলিমার নোট তৈরি হয় বিশেষ প্লাস্টিক জাতীয় উপাদান দিয়ে। এগুলো কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। পানি, ময়লা, ভাঁজ বা ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জাল নোট তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। আরবিআইয়ের মতে, পলিমার নোটে উন্নত সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত করা সম্ভব, যা জালিয়াতদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

Advertisements

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ ইতিমধ্যে নিম্নমূল্যের নোটে পলিমার ব্যবহার শুরু করেছে এবং সফলতা পেয়েছে।সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি নির্বাচিত এলাকায় ট্রায়াল চালানো হবে। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, নোটের টেকসইত্ব এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য দেখার পর পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে চালু করা হবে।

পুরনো কাগজের নোটও একসঙ্গে চলতে থাকবে, তাই কোনো অসুবিধা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। শহরের অনেকে বলছেন, “প্লাস্টিক নোট অনেকদিন টিকবে, বারবার নতুন নোট ছাপাতে হবে না।” গ্রামীণ এলাকার দোকানদাররা বলছেন, “ভাঁজ করে পকেটে রাখলে ছিঁড়ে যায় না, ভালোই হবে।” তবে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রথম দিকে নতুন নোট চিনতে অসুবিধা হতে পারে।

আরও দেখুনঃ রাজ্যসভায় পাস হল ঐতিহাসিক বন্দেমাতরম অবমাননা রক্ষা বিল

কিছু পরিবেশবাদী বলছেন, প্লাস্টিক নোটের রিসাইকেলিং নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।আরবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পলিমার নোটের উৎপাদন খরচ প্রথমে কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সাশ্রয়ী হবে কারণ নোটের আয়ু অনেক বেশি। এছাড়া জাল নোট কমলে অর্থনীতিরও উপকার হবে।

এই পদক্ষেপ ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ২০১৬ সালের নোটবন্দির পর থেকে আরবিআই নোটের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। পলিমার নোট চালু হলে ভারত বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের সারিতে নিজেকে যুক্ত করবে।

আরও দেখুনঃ ২০৩১ র মধ্যে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বন্দরের অংশীদার হয়ে আরও বড় সাম্রাজ্যের মালিক হতে পারেন আদানি

Advertisements