ট্রেজারি হোল্ডিং এক ধাক্কায় ৬০ বিলিয়ন কমিয়ে আমেরিকাকে কূটনৈতিক বার্তা ভারতের

নয়াদিল্লি: ভারত বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে (Treasury)। গত ১৮ মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজের হোল্ডিং প্রায় ৬০…

india-us-treasury

নয়াদিল্লি: ভারত বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে (Treasury)। গত ১৮ মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজের হোল্ডিং প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যেখানে এই পরিমাণ ছিল ২৪১ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা নেমে এসেছে ১৮১ বিলিয়ন ডলারে।

Advertisements

এটি গত প্রায় ছয় বছরের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে কম মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিং। একই সঙ্গে দেশটি সোনার রিজার্ভ বাড়িয়ে এখন তা প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।এই পরিবর্তন ভারতের অর্থনৈতিক কৌশলের এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আরবিআইয়ের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশটি একক দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে চায়।

   

আরও দেখুনঃ হাইকোর্টের ‘ব্ল্যাঙ্কেট ব্যান’ স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে: বড় আইনি জয় সরকারের

মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও তরল সম্পদ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, মুদ্রার ওঠানামা এবং অন্যান্য অনিশ্চয়তা বিবেচনায় আরবিআই সোনার মতো সম্পদের দিকে ঝুঁকেছে। বর্তমানে ভারতের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে সোনার অংশ ক্রমাগত বাড়ছে।সোনার দাম বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী থাকায় এই বিনিয়োগ আরও লাভজনক হয়েছে।

Advertisements

আরবিআইয়ের তথ্য অনুসারে, সোনার রিজার্ভের মূল্য এখন ১১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এটি শুধু আর্থিক সুরক্ষাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতারও প্রতীক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদি। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ভারত নিজেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।বিশ্বব্যাপী একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আরও দেখুনঃ ভুল বুঝিয়ে খ্রিস্টান করা হয়েছিল! মোদী রাজ্যে সনাতনে ফিরল ৫ আদিবাসী পরিবার

অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকই সোনার মজুত বাড়াচ্ছে। চীন, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ডলার-নির্ভর সম্পদ থেকে সরে এসে সোনা ও অন্যান্য বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ করছে। ভারতের এই পদক্ষেপ সেই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আরবিআই গভর্নরের নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও দেখুনঃ মোদী সফরে সাফল্য! এবার নিউজিল্যান্ড-ইন্দোনেশিয়াতেও চলবে ভারতের UPI

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই খবর ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে মনে করছেন, সরকার ও আরবিআই দেশের স্বার্থ দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সোনার দাম বাড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহিত হয়েছেন। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন ট্রেজারি কমিয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ, কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়।

Advertisements