স্কুলের পোশাকে বড় বদল, মুখ খুললেন পড়ুয়া ও শিক্ষকরা

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে আর নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। স্কুল ইউনিফর্মের রঙ নির্ধারণে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। (Bankura)…

Students and Teachers React as Schools Get New Uniforms

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে আর নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। স্কুল ইউনিফর্মের রঙ নির্ধারণে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। (Bankura) ফলে এবার থেকে প্রতিটি স্কুল নিজেদের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্মের রঙ বেছে নিতে পারবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বড় অংশ।

Advertisements

আরও পড়ুন: মৌসুমী অক্ষরেখায় ভাসছে দক্ষিণবঙ্গ, কতদিন চলবে দুর্যোগ?

   

২০২২ সালে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য নীল-সাদা ইউনিফর্ম কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সেই নির্দেশের ফলে বহু স্কুল, যাদের দীর্ঘদিনের নিজস্ব ইউনিফর্ম ছিল, বাধ্য হয়ে পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে নীল-সাদা গ্রহণ করে। এর ফলে ধীরে ধীরে প্রায় সব সরকারি স্কুলের ইউনিফর্ম একই রকম হয়ে যায় এবং অনেকের মতে, হারিয়ে যেতে শুরু করে প্রতিটি বিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় ও ঐতিহ্য।

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদে ২ সপ্তাহে আটক ২৫ বাংলাদেশি! লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে মোট ৩২

Advertisements

নতুন সিদ্ধান্তে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে। এখন স্কুলগুলি নিজেদের পরিচালন সমিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ইউনিফর্মের রঙ নির্ধারণ করতে পারবে। এর ফলে বহু পুরনো স্কুল আবার তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু পরিচয়ের প্রশ্ন নয়, ইউনিফর্ম বিতরণের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল স্কুলগুলিকে। বাঁকুড়ার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত সিংহ মহাপাত্র জানান, আগে স্কুল কর্তৃপক্ষই পড়ুয়াদের জন্য ইউনিফর্ম কিনে দিত। তখন শিক্ষার্থীদের মাপ নেওয়া এবং পোশাক বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াই স্কুলের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হতো। কিন্তু পরে সেই ব্যবস্থা বদলে যায়। পড়ুয়াদের বাইরে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে মাপ দিয়ে আসতে বলা হয়। অনেক ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন কারণে সেই সময় উপস্থিত থাকতে না পারায় সঠিক মাপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ইউনিফর্মের সাইজ নিয়ে একাধিক সমস্যা দেখা দেয় এবং অনেক পড়ুয়াকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন:‘আইন হাতে নিলে রেহাই নেই’: সোমেই লাগু গুণ্ডা দমন আইন, UCC নিয়েও বার্তা

নতুন সিদ্ধান্তে স্কুলগুলির প্রশাসনিক স্বাধীনতা যেমন বাড়বে, তেমনই ইউনিফর্ম সংক্রান্ত সমস্যাগুলিও অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে স্কুলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচিতি বজায় রাখার সুযোগও মিলবে।

অভিভাবকদের একাংশেরও মত, প্রতিটি স্কুলের নিজস্ব ইউনিফর্ম থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে চেনা সহজ হয়। স্কুলের ঐতিহ্য ও পরিচয়ও বজায় থাকে। অনেক পড়ুয়াও জানিয়েছে, নিজেদের স্কুলের আলাদা ইউনিফর্ম ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনায় তারা খুশি।

Advertisements