স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এবার সরাসরি নজরদারিতে রাজ্যের হাসপাতাল

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে (Health Minister’s Office) স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে বড় উদ্যোগের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালগুলিতে এবার চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং…

suvendu adhikari rathyatra shrabani mela announcement

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে (Health Minister’s Office) স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে বড় উদ্যোগের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালগুলিতে এবার চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেই সরাসরি নজরদারি করা হবে বিভিন্ন সরকারি(Health Minister’s Office)  হাসপাতালের পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগী পরিষেবার উপর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তা আরও বিস্তৃত আকারে চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Advertisements

আরও পড়ুন: দুধিয়ায় নতুন বেইলি ব্রিজের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

   

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে তিনি পাটনা সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দফতরে একটি অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম দেখে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হন। সেই কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের সমস্ত সাব-ডিভিশন হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলোর উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছিল। হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে কী পরিস্থিতি রয়েছে, জরুরি বিভাগে রোগীরা ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছেন কিনা, আউটডোরে ভিড়ের অবস্থা কেমন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কিনা সবকিছুই সেখানে বসে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছিল।

সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করার জন্য তিনি প্রধান সচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি সব দেখে এসেছিলাম। তারপরই বলেছিলাম, এখানেও আমরা এমন একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি করব।” যদিও এখনও পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি, তবে আর এক মাসের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisements

আরও পড়ুন:সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, দোরগোড়ায় দুর্যোগ: ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ, লাল সতর্কতা উত্তরে

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি স্টেট হাসপাতালে এই মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এবার লক্ষ্য, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত সাব-ডিভিশন হাসপাতালকেও এই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা। এরপর ধাপে ধাপে জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও এই কন্ট্রোল রুমের সংযোগ স্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন:ডানকুনি পুরসভায় ভাঙল তৃণমূল বোর্ড, চেয়ারম্যান-সহ চারজনের ইস্তফায় চাঞ্চল্য

শুধু হাসপাতালের ওয়ার্ড বা জরুরি বিভাগই নয়, হাসপাতাল চত্বরে থাকা রান্নাঘর, পার্কিং এলাকা, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার উপরও নজরদারি চালানো হবে। এর ফলে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতরে এমন কোনও নজরদারি করা হবে না যাতে রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় প্রকাশ্যে চলে আসে। বরং নজর থাকবে ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ঠিক রয়েছে কিনা এবং জরুরি বিভাগে কোনও রোগী অবহেলায় পড়ে রয়েছেন কিনা, সেইসব বিষয়ে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে চলছে কিনা, কোথাও কোনও গাফিলতি রয়েছে কিনা, তা এই কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ফলে কোনও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে।

Advertisements