রামমন্দিরের পর বদ্রীনাথ! প্রণামীর টাকা চুরির অভিযোগ! অস্বস্তিতে মন্দির কমিটি

নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরের পর এ বার উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ মন্দির। মন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল বদ্রীনাথ ধামে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে মন্দির…

নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরের পর এ বার উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ মন্দির। মন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল বদ্রীনাথ ধামে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে মন্দির পরিচালনকারী সংস্থা ‘বদ্রী কেদার টেম্পল কমিটি’ (BKTC)। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান। (badrinath temple donation theft allegation bktc probe)

Advertisements

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু

সম্প্রতি এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বদ্রী কেদার টেম্পল কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গারকে একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, মন্দিরের দানবাক্স থেকে প্রণামীর টাকা চুরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কমিটির এক কর্মী। ওই সংস্থার দাবি, এর আগেও তাঁরা বিষয়টি চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর নজরে এনেছিলেন, কিন্তু তখন তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

   

কমিটির প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বিকেটিসি (BKTC)। মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব নন, তিনি কমিটির একজন স্থায়ী কর্মী। তিনি বলেন, “ওই কর্মচারী এর আগে কমিটির তিন জন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তদন্তে বিশেষ কমিটি

বিকেটিসি-র কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সেই সব ফুটেজ খুব একটা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কর্মীদের কাছ থেকে লিখিত বয়ানও তলব করা হয়েছে। বিকেটিসি-র সাফ কথা, তদন্তে কারচুপি প্রমাণিত হলে ১৯৩৯ সালের বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটি আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisements

সম্প্রতি বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ-সহ গাড়োয়ালের অধীনে থাকা ৪৯টি মন্দিরের দানসামগ্রী দেখভালে স্বচ্ছতা আনার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। তার পরেই এই চুরির অভিযোগ সামনে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

Advertisements