রাম মন্দির তহবিল কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের হয়ে লড়বে না কোনও আইনজীবী!

অযোধ্যা: রাম মন্দির দান তহবিল কেলেঙ্কারির অভিযোগে জড়িতদের হয়ে (Ram Mandir)কোনো আইনজীবী মামলা লড়বেন না। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন এই ঘোষণা করে এক বিরল পদক্ষেপ নিয়েছে।…

ram-mandir-donation-fund-scam-ayodhya-bar-association

অযোধ্যা: রাম মন্দির দান তহবিল কেলেঙ্কারির অভিযোগে জড়িতদের হয়ে (Ram Mandir)কোনো আইনজীবী মামলা লড়বেন না। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন এই ঘোষণা করে এক বিরল পদক্ষেপ নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালিকা প্রসাদ মিশ্র জানিয়েছেন, যদি কোনো আইনজীবী এই অভিযুক্তদের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাহলে তাঁকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

Advertisements

এই সিদ্ধান্ত অযোধ্যা ও রাম মন্দিরকে ঘিরে গড়ে ওঠা ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।ঘটনাটি অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। সভাপতি কালিকা প্রসাদ মিশ্র বলেন, “রাম মন্দির দেশের কোটি কোটি হিন্দুর আবেগের প্রতীক। এই মন্দিরের দানের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।

   

আরও দেখুনঃ আয়াতুল্লাহ খামেনেই-র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল

এমন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়ালে তা সমগ্র আইনজীবী সমাজের জন্য লজ্জার বিষয় হবে।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধু অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের জন্যই নয়, অযোধ্যায় অনুশীলনরত সকল আইনজীবীর জন্য প্রযোজ্য।রাম মন্দির তহবিল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে, ভক্তদের দানের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই মামলায় কয়েকজন ব্যক্তির নাম জড়িয়ে গেছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অযোধ্যার স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা বলছেন, যাঁরা রামের নামে দান করা টাকায় নজর দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে বার অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্তকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন।একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “রাম মন্দির তৈরি হওয়ার পর থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ দান করেছেন। সেই টাকা যদি কেউ লুট করে, তাহলে তাকে সমাজের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে।

Advertisements

আইনজীবীরা যদি তাদের পক্ষ না নেন, তাহলে সেটা একটা বড় বার্তা।” অন্যদিকে কিছু আইনজীবী মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তাঁরা বলছেন, প্রত্যেক অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে। কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা নৈতিকতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

বিজেপি নেতারা এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে যাঁরা অপরাধ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সমাজের সব অংশকে এক হয়ে দাঁড়াতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো বলছে, এই সিদ্ধান্ত আইনের শাসনকে দুর্বল করে। তাঁরা মনে করেন, আদালতেই এসব বিষয়ের মীমাংসা হওয়া উচিত, কোনো সংগঠনের চাপে নয়।এই ঘটনা অযোধ্যার আইনজীবী সমাজের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি করেছে।

সভাপতি কালিকা প্রসাদ মিশ্র জানিয়েছেন, জরিমানার টাকা অ্যাসোসিয়েশনের তহবিলে জমা হবে এবং সেই টাকা সামাজিক কাজে ব্যবহার করা হবে। তিনি আশা করছেন, এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য বার অ্যাসোসিয়েশনকেও অনুপ্রাণিত করবে।রাম মন্দির নিয়ে দেশজুড়ে যে ভক্তি ও আবেগ রয়েছে, তার প্রতিফলন এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট।

Advertisements