বিধানসভায় পেশ ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া বিল, অধিবেশনে জোর চর্চা

কলকাতা: পূর্বতন সরকারের ‘তোষণ নীতি’ বাতিলের ডাক দিয়ে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। দীর্ঘ…

West Bengal OBC Amendment Bill 2026

কলকাতা: পূর্বতন সরকারের ‘তোষণ নীতি’ বাতিলের ডাক দিয়ে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক এবং একাংশ বিধায়কের ওয়াকআউটের মধ্যে দিয়ে এদিন ভোটাভুটিতে বিলটি পাশ হয়। বিলের পক্ষে ১৮৬টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছ’জন বিধায়ক।

Advertisements

এদিন বিধানসভায় বিল দু’টি পেশ করেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, বিলটি ধ্বনিভোটেই পাশ হয়ে যাবে। কিন্তু আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বিলের বিরোধিতা করে ভোটাভুটি বা ডিভিশনের দাবি জানান। স্পিকার রথীন্দ্র বসু সেই আবেদনে সম্মতি দিতেই বিধানসভার অন্দরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়।

   

কক্ষত্যাগ ঘিরে নাটক

স্পিকারের অনুমতির পরেই ভোটাভুটিতে অংশ নেয় কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করে কক্ষত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিধায়কেরা। ভোটাভুটির আগে ঋতব্রত শিবিরের অধিকাংশ বিধায়ক বেরিয়ে গেলেও কয়েকজন যথাসময়ে বেরোতে পারেননি। পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তাঁদের বেরোতে দেওয়া হয় এবং যথাসময়ে কক্ষত্যাগ না করার জন্য তাঁদের ভর্ৎসনাও করেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, ঋতব্রত শিবিরের ছয় জন বিধায়ক ওয়াকআউট করেননি। বাইরন বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন, কাজল শেখ এবং তৌফিকুর রহমানের মতো বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নিজেদের আসনেই বসে থাকেন। বিল পাশের পর অবশ্য ওয়াকআউট করা বিধায়কদের প্রত্যেকেই ফের অধিবেশনকক্ষে ফিরে আসেন।

Advertisements

পক্ষে-বিপক্ষে সওয়াল

বিলের পক্ষে বলতে উঠে দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী দাবি করেন, শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক এবং তোষণের স্বার্থেই আগের তৃণমূল সরকার ওবিসি তালিকা তৈরি করেছিল। হিন্দুদের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। পালটা বিলের বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন ঋতব্রত-তৃণমূলের জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

কী বদল এল নয়া বিলে?

তৃণমূল জমানার ২০১২ সালের আইন সংশোধনের লক্ষ্যে এদিন মূলত দু’টি বিল পেশ করা হয়— ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস রিজ়ার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’।

নতুন বিলে তৃণমূল জমানায় তৈরি ক্যাটেগরি ‘এ’-র ৬৫টি এবং ক্যাটেগরি ‘বি’-র ৭৮টি জনগোষ্ঠী সম্বলিত তফশিল বা ‘সিডিউল ওয়ান’ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে নতুন বিলে বাম জমানার তফসিল-১’কেই পুনরায় বহাল করা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, অনগ্রসর কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্য সরকার ওবিসি-র জন্য সংরক্ষিত পদের শতাংশ হার ঠিক করবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই হার বাড়ানো হলেও, সার্বিক ভাবে সংরক্ষণের হার কোনোভাবেই ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য এবার থেকে সরাসরি নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন। কোনো গোষ্ঠীর অতি-অন্তর্ভুক্তি বা কম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আপত্তি উঠলে, কমিশনের সুপারিশই মেনে চলবে রাজ্য সরকার। কমিশনের সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর রাখা হলেও, সদস্য-সচিবের মেয়াদের বিষয়টি রাজ্য সরকারই স্থির করবে।

Advertisements