প্রতীকের দাবিতে আজ বিকেলেই সিইও দফতরে যাবে ঋতব্রতর তৃণমূল

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে (Jora Phool)জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীককে ঘিরে টানাপোড়েন। মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে…

jora-phool-symbol-dispute-tmc

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে (Jora Phool)জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীককে ঘিরে টানাপোড়েন। মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। তাঁদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন তাঁদের পক্ষেই রয়েছে, ফলে দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর উপর প্রকৃত অধিকারও তাঁদেরই হওয়া উচিত।

Advertisements

সূত্রের খবর, নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে সম্প্রতি আয়োজিত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস স্পেশাল সেশন’-এর পরই বিদ্রোহী শিবির তাদের সাংগঠনিক দাবিকে আইনি রূপ দেওয়ার পথে এগিয়েছে। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের প্রতিনিধি দল এবং আইনজীবীরা সিইও দফতরে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে যাচ্ছেন। শুধু কলকাতাতেই নয়, একই সঙ্গে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের কাছেও আবেদন জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

   

আরও দেখুনঃ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়! ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিস্ফোরক শুভেন্দু

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁদের মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত কর্মসমিতির সাংগঠনিক বৈধতা বর্তমানে আর নেই। সেই কারণেই দলের অভ্যন্তরে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন করে ৩০ সদস্যের একটি নতুন কর্মসমিতি গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক নীতির ভিত্তিতে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে বহু জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করছেন। পাশাপাশি জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অধিকারও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।

Advertisements

তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অফিসিয়াল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ বৈধ এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন সাংগঠনিক তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে।

তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বিদ্রোহী শিবিরের পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের কর্মসূচির কোনও রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। দলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘সার্কাস’ এবং ‘কমেডি শো’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলের অধিকাংশ সাংসদ, বিধায়ক, জেলা নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থক এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপরই আস্থা রাখছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিরোধ আপাতত প্রতীক এবং সাংগঠনিক বৈধতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে তা আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন যদি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানির পথে যায়, তাহলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, সদস্যসংখ্যা এবং জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনের প্রমাণ পেশ করতে হতে পারে।

Advertisements