মহরমের আগেই গেরুয়া রাজ্যে হিন্দু দলিতদের উপর মুসলিম অত্যাচারে বাড়ল উত্তেজনা

পটনা: বিহারের বেগুসরাই জেলায় মহরমের আগেই ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। (Begusarai)শিশুদের মধ্যে সামান্য ঝগড়াকে কেন্দ্র করে একটি মুসলিম জনতা দলিত হিন্দু পরিবারের বাড়িগুলোতে পাথর ছুড়ে হামলা…

begusarai-muharram-tension

পটনা: বিহারের বেগুসরাই জেলায় মহরমের আগেই ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। (Begusarai)শিশুদের মধ্যে সামান্য ঝগড়াকে কেন্দ্র করে একটি মুসলিম জনতা দলিত হিন্দু পরিবারের বাড়িগুলোতে পাথর ছুড়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করেছেন, হামলাটি আকস্মিক ও পরিকল্পিত ছিল এবং পুলিশ ঘটনার সময় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

Advertisements

ঘটনাটি ঘটেছে বেগুসরাইয়ের একটি গ্রামে। স্থানীয় সূত্র অনুসারে, দুই সম্প্রদায়ের শিশুরা খেলতে গিয়ে ছোটখাটো বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের মতে, একদল লোক হঠাৎ করে দলিত হিন্দু পরিবারের বাড়িগুলো লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। ঘরের ছাদ, জানালা ভেঙে যায়, মহিলা ও শিশুরাও আহত হন।

   

আরও দেখুনঃ ১২ বছরের মোদী শাসনে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ১.৭৮ লক্ষ কোটিতে পৌঁছে রেকর্ড ভারতের

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।স্থানীয় এক দলিত যুবক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। শিশুদের ঝগড়া তো প্রতিদিনই হয়। কিন্তু এভাবে হঠাৎ পাথর ছুড়ে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের মহিলা ও বাচ্চারা ভয়ে ঘরের ভিতর লুকিয়ে ছিল।” তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা চিৎকার করে ধর্মীয় স্লোগানও দিয়েছিল বলে অভিযোগ।

এলাকার অন্যান্য হিন্দু বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মুহররমের সময় প্রতিবছরই উত্তেজনা বাড়ে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ সময় মত পৌঁছায়নি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে। একজন স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা পুলিশকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু তারা আসতে অনেক দেরি করেছে। যদি সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তাহলে এতগুলো মানুষ আহত হত না।”

Advertisements

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্র্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Advertisements