ফলতায় থানা ঘেরাওয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী গ্রেফতার

ডায়মন্ড হারবার: এবার পুলিশের জালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী৷ রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’কে মুক্ত করতে থানা…

ডায়মন্ড হারবার: এবার পুলিশের জালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী৷ রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’কে মুক্ত করতে থানা ঘেরাও এবং পুলিশের ওপর হামলার মূল চক্রী হিসেবে এবার তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করা হল। শনিবার সকালে বিষ্ণুপুরের জুলপিয়া এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। এদিনই ধৃতকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।

Advertisements

কী কী অভিযোগ রয়েছে রেজিনার বিরুদ্ধে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরকে যখন পুলিশ কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল, তার প্রতিবাদে বহিরাগত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উস্কানি দিয়ে বেআইনি জমায়েত করার অভিযোগ রয়েছে রেজিনার বিরুদ্ধে। রাস্তা অবরোধ করে ফলতা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর হামলা চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

   

ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন, বেআইনি জমায়েত, পুলিশকে আক্রমণ এবং বিদ্বেষ ছড়ানো-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে ফলতা থানার পুলিশ।

হামলার ছক কষা হয়েছিল আগের দিনই!

পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরকে থানা থেকে জোর করে মুক্ত করার পুরো পরিকল্পনাটি আগে থেকেই করা হয়েছিল এবং এই ছকের নেপথ্যে ছিলেন তাঁর স্ত্রী-ই। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি গোপন বৈঠকও করেছিলেন রেজিনা। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, থানার অদূরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা একজোট হবে এবং সুযোগ বুঝে একযোগে থানায় হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গিরকে ছাড়িয়ে আনা হবে।

Advertisements

আগে ধৃত ৮, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা পুলিশের

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফলতার শতল কলসায় বেআইনি জমায়েতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ব্যাপক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুরো ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। সেই এফআইআর (FIR) তালিকাতেই নাম ছিল জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবির। ঘটনার পর থেকেই তাঁর খোঁজ চলছিল।

অবশেষে শনিবার সকালে পুলিশের জালে ধরা পড়েন রেজিনা। এখন ডায়মন্ড হারবার আদালত ধৃতকে পুলিশি হেফাজত নাকি অন্য কোনো নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

Advertisements