শত্রুর মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত ভারত, ১০৬টি দেশীয় ‘অগ্নিবেগ’ কামিকাজে ড্রোন হস্তান্তর সম্পন্ন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম ‘পিসকিপার’ (অগ্নিবেগ)-এর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে (Agniveg Kamikaze Drone)। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি (SMPP) সেনাবাহিনীর…

Agniveg

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম ‘পিসকিপার’ (অগ্নিবেগ)-এর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে (Agniveg Kamikaze Drone)। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি (SMPP) সেনাবাহিনীর হাতে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ড্রোন তুলে দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, এই ড্রোনগুলো শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে গিয়ে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম এবং এমনকি আধুনিক ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মধ্যেও সফলভাবে নিজেদের মিশন সম্পন্ন করতে পারে। এটিকে ভারতের নিজস্ব ড্রোন হামলার সক্ষমতা জোরদার করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Advertisements

১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানার সক্ষমতা
এসএমপিপি (SMPP)-র তথ্য অনুযায়ী, ‘পিসকিপার’ (অগ্নিবেগ) ড্রোনটির কার্যকর পাল্লা বা অপারেশনাল রেঞ্জ প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এবং এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানতে সক্ষম। শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, রাডার স্টেশন, লজিস্টিকস হাব এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য এই ড্রোনটি তৈরি করা হয়েছে।

   

কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক ব্যবহারকারী পরীক্ষায় ড্রোনটি ৫ মিটারের কম সিইপি (CEP বা সার্কুলার এরর প্রোবাবেল) অর্জন করেছে; এর অর্থ হলো, এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে কার্যকর
এই ড্রোনের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের মতো ইলেকট্রনিক আক্রমণের মধ্যেও এর কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Advertisements

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি
‘পিসকিপার’ (অগ্নিবেগ) হলো টার্বোজেট-চালিত এক ধরনের কামিকাজে ড্রোন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিখুঁত আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাটি প্রচলিত আর্টিলারি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যকার কার্যগত ব্যবধান দূর করবে; ফলে সেনাবাহিনী দ্রুত ও নিখুঁত আঘাত হানার জন্য একটি সাশ্রয়ী বিকল্প পাবে এবং একই সাথে সৈন্যদের ঝুঁকিও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

ছয় মাসের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সেনাবাহিনীর কাছে সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভুলতা, স্বায়ত্তশাসন এবং সাশ্রয়ী মূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে; আর এ ধরনের ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

ভবিষ্যতে দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ আনা হবে
এসএমপিপি (SMPP) জানিয়েছে যে, বর্তমান অর্ডারের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তারা সেনাবাহিনীকে ‘পিসকিপার’ (অগ্নিবেগ)-এর একটি উন্নত ও দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণও প্রস্তাব করেছে। কোম্পানিটি এখন ব্যালিস্টিক সুরক্ষা, ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা, প্রিসিশন স্ট্রাইক প্রযুক্তি এবং বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদের মতো ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।

Advertisements