গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা, উঠল ‘চোর’ স্লোগান

কলকাতা পুরসভার একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। গত দু’সপ্তাহের মধ্যেই হাফ ডজন তৃণমূল কাউন্সিলার আইনের জালে ধরা পড়েছেন।…

TMC Councillor Bappaditya Dasgupta Arrested, Residents Raise ‘Thief’ Slogans

কলকাতা পুরসভার একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। গত দু’সপ্তাহের মধ্যেই হাফ ডজন তৃণমূল কাউন্সিলার আইনের জালে ধরা পড়েছেন। সেই তালিকায় শনিবার নতুন সংযোজন ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তোলাবাজির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পাটুলি থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Advertisements

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় বাপ্পাদিত্যর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল যুবনেতা সৌরভ ঘোষকে। অভিযোগ, তোলাবাজির ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সৌরভের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই রাতে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কাউন্সিলারকে থানায় ঢোকানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পুলিশের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দ্রুত তাঁকে থানার ভিতরে নিয়ে যেতে হয়। সেই সময় বহু মানুষের মুখে শোনা যায় ‘চোর, চোর’ স্লোগান। এলাকার সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

   

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতের দিকে এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকেই বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। কারও দাবি, কলোনি এলাকার বহু পরিবারকে উচ্ছেদের ঘটনায় কাউন্সিলার সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের আপত্তি সত্ত্বেও সেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল এবং তাতে কাউন্সিলারের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

শুধু উচ্ছেদ নয়, বেআইনি নির্মাণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকার কিছু বাসিন্দার দাবি, বিভিন্ন অবৈধ নির্মাণের কাজে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। এমনকী, স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ জানালেও সেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বহু ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়কার একটি বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় এক পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে তাঁদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে, তবে বাপ্পাদিত্যর গ্রেপ্তারের পর সেই বিষয়টি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে এখনও পর্যন্ত বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশও পুরো বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সমস্ত তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে। বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় এবং এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। তবে তাঁর গ্রেপ্তারের পর যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Advertisements