সই জাল কাণ্ডে বেকায়দায় অভিষেক! শান্তিনিকেতনে CID অভিযান

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)বাড়িতে সাত সকালে CID অভিযান ঘিরে ছড়াল উত্তেজনা। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তাবনায়…

abhishek-banerjee-cid-santiniketan

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)বাড়িতে সাত সকালে CID অভিযান ঘিরে ছড়াল উত্তেজনা। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তাবনায় সই জাল কান্ডেই অভিষেকের শান্তিনিকেতনে CID আধিকারিকরা গিয়েছেন। তদন্তের খাতিরে CID আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেও প্রথমে কারুর সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে শান্তিনিকেতনের এক কর্মী বেরিয়ে এসে জানান অভিষেক এবং তার পরিবার বাড়িতে নেই। কোথায় আছেন তাও তার ধারণা নেই এমনটাই জানিয়েছেন সেই কর্মী। CID আধিকারিকরা একটি নোটিস দেওয়ার জন্য আজ শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন বলেই জানা যাচ্ছে।

Advertisements

রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার জন্য যে রেজোলিউশন বা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল, সেই নথিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

   

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তে নেমেছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা সিআইডি। ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। এই জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্তের খাতিরেই অভিষেকের শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন CID আধিকারিকরা।

সূত্রের খবর, সই জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বক্তব্য রেকর্ড করতে সিআইডি মূলত চারজন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ, ভাঙড়ের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

Advertisements

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কলকাতার তালতলায় তাঁর আবাসনে সিআইডির একটি বিশেষ দল পৌঁছায়। তদন্তকারীরা সেখানে তাঁর হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেন এবং প্যান কার্ডের কপিও নেন। সই সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে দাবি করেন, তিনি নিজেই ওই নথিতে নিজের নাম বড় হাতের অক্ষরে লিখেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি নিজের হাতে নাম লিখেছি। এখানে সই জাল করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”

অন্যদিকে, বীরভূমের বোলপুরে বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহের বাড়িতেও পৌঁছায় সিআইডির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং ক্যামেরার সামনে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা সই তাঁর কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও যৌথভাবে পৌঁছায় সিআইডি ও স্থানীয় পুলিশের একটি দল। সেখানে তাঁর কাছ থেকে সই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত বয়ান নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানতে চান, তিনি আদৌ ওই প্রস্তাবপত্রে সই করেছিলেন কি না এবং যদি করে থাকেন, তবে সেটি কীভাবে জমা পড়েছিল। বাহারুল ইসলাম তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলে সূত্রের খবর।

এদিকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের ক্ষেত্রেও তদন্ত এগিয়েছে। সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পাশাপাশি ফোনেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এই বিষয়ে কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

Advertisements