‘এবার অবসর নিন মমতা!’ জিতেই বিবৃতি শুভেন্দুর

কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। (Suvendu Adhikari)বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে কার্যত চমক দেখালেন।…

suvendu-adhikari-defeats-mamata-banerjee-bhabanipur-election-result-2026

কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। (Suvendu Adhikari)বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে কার্যত চমক দেখালেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি এই কেন্দ্র দখল করেছেন বলে দাবি করেছেন এবং নিজের জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

Advertisements

গণনাকেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার শংসাপত্র হাতে বেরিয়ে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। এটা ওনার রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সূচনা।” তাঁর এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

   

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এবারের নির্বাচনেও তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “ভোটের সময় মুসলিম সম্প্রদায় খোলাখুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করেছেন এবং জিতিয়েছেন।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই জয় ‘হিন্দুত্বের জয়’ হিসেবেও চিহ্নিত করা যেতে পারে।

আরও দেখুনঃ শ্রষ্টার জন্মমাসেই বাংলায় খান খান ‘হীরক রানী’

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বাম ভোটারদের একটি বড় অংশও তাঁকে সমর্থন করেছেন। তাঁর কথায়, “সিপিএমের প্রায় ১৩ হাজার ভোট ছিল ভবানীপুরে, যার মধ্যে অন্তত ১০ হাজার ভোট আমার দিকে এসেছে।” তিনি সিপিএম সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাঙালি হিন্দুদের পাশাপাশি গুজরাটি, জৈন, মারওয়ারি, পূর্বাঞ্চলীয় এবং শিখ সম্প্রদায়ের মানুষও তাঁকে সমর্থন করেছেন।

Advertisements

এই জয়ের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। শুভেন্দুর দাবি, “অমিত শাহ আমাকে দু-তিনবার ফোন করেছিলেন এবং ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন। তবে আমি তখন ফোন ব্যবহার করতে পারিনি। এখন তাঁকে সব জানাব।” তিনি আরও জানান, নন্দীগ্রামের জয়ী হওয়ার শংসাপত্রও সংগ্রহ করতে হবে তাঁর।

এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে এই ধরনের ফলাফল নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

তবে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।

Advertisements