বাংলায় গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল তৃণমূলের ১৪ মন্ত্রী

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে এক বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ছবি (BJP leading)। দুপুর ২টো পর্যন্ত প্রাপ্ত ট্রেন্ড অনুযায়ী, ২৯৩টি…

bjp-leading-194-seats-west-bengal-political-shift-tmc-ministers-trailing-2026

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে এক বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ছবি (BJP leading)। দুপুর ২টো পর্যন্ত প্রাপ্ত ট্রেন্ড অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৯৪টি আসনে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ৯৫টি আসনে। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের কারণে ওই কেন্দ্রের ভোটগণনা আজ হয়নি, তাই মোট ২৯৩টি আসন ধরেই হিসাব চলছে। এই পরিসংখ্যানই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisements

তবে শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, এবারের গণনার সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের ফলাফলে। রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী, যাঁরা এতদিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁরা নিজেদের কেন্দ্রেই পিছিয়ে পড়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের ভোটাররা কি এবার নতুন বার্তা দিতে চাইছেন?

   

আরও দেখুনঃ টালিগঞ্জে অরূপ দুর্গে চিড়? ৬৩৪ ভোটে এগিয়ে গেলেন পাপিয়া

জঙ্গলমহলের বিনপুর কেন্দ্র থেকে বিদায়ী বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা পিছিয়ে রয়েছেন। একইভাবে চন্দননগর কেন্দ্র থেকে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও পিছিয়ে পড়েছেন, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মোথাবাড়ি কেন্দ্র থেকে সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও পিছিয়ে রয়েছেন যাঁর নাম আগে বিতর্কে জড়িয়েছিল।

মন্তেশ্বর কেন্দ্র থেকে গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, দুর্গাপুর পূর্ব থেকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং উলুবেড়িয়া দক্ষিণ থেকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী পুলক রায় এই তিনজনই এই মুহূর্তে পিছিয়ে। হেমতাবাদ কেন্দ্র থেকে স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন এবং জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্র থেকে পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও একই অবস্থায় রয়েছেন।

Advertisements

কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও চিত্রটা ভিন্ন নয়। দমদম কেন্দ্র থেকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং দমদম উত্তর থেকে অর্থ ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দুজনেই পিছিয়ে রয়েছেন। উত্তরবঙ্গের দিনহাটা কেন্দ্র থেকে উদয়ন গুহ, সবং কেন্দ্র থেকে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এবং শালবনি থেকে শ্রীকান্ত মাহাতা এদের ফলাফলও তৃণমূলের জন্য উদ্বেগজনক। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধাননগর কেন্দ্র থেকে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। যা এই মুহূর্তে তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধুমাত্র দলীয় লড়াইয়ের ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের শাসনের উপর মানুষের ক্ষোভ, উন্নয়ন নিয়ে অসন্তোষ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবুও বর্তমান ট্রেন্ড রাজ্যে ক্ষমতার রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড কতটা বাস্তবে রূপ নেয় এবং বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।

Advertisements