ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রেই উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর ছিল। তবে কালির বাজারে এক ঘটনা এমনভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে যে, তাতে রাজনীতির মাঠে তীব্র বিতর্কের…

Suvendu Adhikari calls for change

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রেই উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর ছিল। তবে কালির বাজারে এক ঘটনা এমনভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে যে, তাতে রাজনীতির মাঠে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন।

Advertisements

বৃহস্পতিবার, ভোটের দিনে কালির বাজারে ভোটগ্রহণ চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, “মার্ডারের কেসের অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন কী করে বাইরে থাকে? হিন্দুদের ভোট দিতে দিচ্ছে না!” শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনীতির আঙিনায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই কেন্দ্রের কিছু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষজনকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, “হিন্দু ভোটারদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা ভোট দিতে পারছেন না।”

   

এর পরই শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলেন, “আসুন আমার সঙ্গে। আমি যাচ্ছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করে ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এই ঘটনাটি শিরোনামে আসার পর, রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারীর এমন মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, শুভেন্দু অধিকারী যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, তা ছিল একেবারেই সত্য। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বেশ কিছু ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে এবং এটা ভোটের প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করা হয়। বিজেপির নেতারা দাবি করেন, এই ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে তিনি শুধু রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতির জন্য এমন কুৎসিত বক্তব্য দিচ্ছেন।” বিজেপির মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী যে কাজ করছে তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং তারা কখনও কোনো দলের পক্ষে কাজ করেন না। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যের পর আরও একটি বিষয় সামনে আসে। তিনি সাহাবুদ্দিনের নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাহাবুদ্দিন, যিনি এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন, তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সুরে বলার চেষ্টা করেছেন যে, রাজ্যের কিছু অংশে অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন এবং এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

Advertisements
Advertisements