ভোটের শুরুতেই ইসলামপুরে সিপিএম কর্মীর মৃত্যু, তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ

রানা দাস, ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর: বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের শুরুতেই মৃত্যু হল বাংলায়৷ সোমবার গভীর রাতে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থানার গুঞ্জুরিয়া এলাকায় সিপিএম কর্মী নুর আজম…

islampur-cpm-worker-death-tmc-murder-allegation-election-violence

রানা দাস, ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর: বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের শুরুতেই মৃত্যু হল বাংলায়৷ সোমবার গভীর রাতে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থানার গুঞ্জুরিয়া এলাকায় সিপিএম কর্মী নুর আজম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ও সিপিএমের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে নুর আজমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

Advertisements

ঘটনার বিবরণ

পরিবারের দাবি অনুসারে, সোমবার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি নুর আজমকে তুলে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় তিনি অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়িতে ফিরে তিনি ভাঙচুর করেন এবং উন্মাদের মতো আচরণ করতে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তাড়াতাড়ি ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে তিনি ছটফট করছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নুর আজমের পরিবারের সদস্যরা এবং সিপিএম প্রার্থী সামি খান হাসপাতালে ছুটে আসেন।

   

পরিবারের অভিযোগ

নুর আজমের পরিবার সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, সিপিএম করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা নুর আলম তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের দাবি, “আজ নুর আলমই তাঁকে খুন করিয়েছেন।”
পরিবার আরও জানিয়েছে, নুর আজমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

সিপিএমের প্রতিক্রিয়া

সিপিএম প্রার্থী সামি খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন যে, ভোটের মুখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। দলের তরফে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে।

Advertisements

ইসলামপুর পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।  তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।

ভোটের আবহে উত্তেজনা

উত্তর দিনাজপুর জেলা বিশেষ করে ইসলামপুর এলাকা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। ভোটের শুরুতেই এই ধরনের ঘটনা রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনকে এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের আগে এ ধরনের ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে। পুলিশের তদন্ত যত এগোবে, ঘটনার পুরো চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisements