দিনহাটায় বিজেপির রোড শো ঘিরে স্লোগানযুদ্ধ, মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা

দিনহাটা, ১৩ এপ্রিল: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। সোমবার দিনহাটায় বিজেপির রোড শো ঘিরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়।…

dinhata-bjp-roadshow-slogan-clash-tmc-election-tension

দিনহাটা, ১৩ এপ্রিল: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। সোমবার দিনহাটায় বিজেপির রোড শো ঘিরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা উত্তেজনায় ভরে ওঠে।

Advertisements

শমীক ভট্টাচার্যের হেলিকপ্টার অবতরণ ও রোড শো

বিজেপি দিনহাটা বিধানসভার প্রার্থী অজয় রায়ের সমর্থনে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোমবার দিনহাটা শহরে কর্মসূচি নেন।

   

তিনি প্রথমে হেলিকপ্টারে করে দিনহাটা পিজিবিটি কলেজ মাঠে অবতরণ করেন। তারপর পিজিবিটি কলেজ থেকে পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত রোড শোয়ে অংশ নেন। পরিকল্পনা ছিল পাঁচমাথা মোড়ে একটি পথসভা করার।

রোড শো চলাকালীন বিজেপি কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে প্রচার চালান। শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে বেশ উদ্দীপনা দেখা যায়।

Advertisements

তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে স্লোগানের লড়াই

রোড শো যখন দিনহাটা কলেজ পাড়ার তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ঘটনাটি ঘটে।

তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা বিজেপি কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন। অন্যদিকে তৃণমূলের কর্মীরা জোরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন।

দুই পক্ষের এই স্লোগানযুদ্ধ খুব দ্রুত তীব্র আকার নেয়। এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, বড় ঘটনা এড়ানো গেল

সৌভাগ্যবশত, এলাকায় আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সতর্কতায় কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনো সংঘর্ষ বা হাতাহাতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে স্লোগানযুদ্ধের এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করতে শুরু করেছে।

নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল। এই এলাকা কোচবিহার জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যত জোরদার হচ্ছে, ততই দুই প্রধান দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রচারের স্বাভাবিক অংশ হলেও, উত্তেজনা যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায় সেদিকে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হোক। অনেকে বলছেন, “রাজনীতি হোক, কিন্তু শান্তি নষ্ট না হয়।”

বিজেপির রোড শোয়ের পর শমীক ভট্টাচার্য পথসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালিয়ে যেতে। অন্যদিকে তৃণমূলও তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

দিনহাটার এই ঘটনা দেখিয়ে দিল যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোবে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠ ততই গরম হতে চলেছে।

Advertisements