‘ভোটের ধুলোয় অন্ধ হলে চলবে না’, নাম বাদ বিতর্কে ভোটাধিকারের পক্ষেই সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ বা ‘এসআইআর’ (SIR) ইস্যুতে কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য…

নয়াদিল্লি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ বা ‘এসআইআর’ (SIR) ইস্যুতে কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সোমবার স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম থাকা একজন নাগরিকের শুধু সাংবিধানিক নয়, আবেগেরও অধিকার। নির্বাচনের ডামাডোলে এই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না।

Advertisements

গত ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত (ফ্রিজ) করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। কিন্তু তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বহু ভোটারের আপিল এখনও ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, আপিলে জিতলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) তাঁদেরও ভোটাধিকার দিতে হবে।

   

এই মামলার শুনানিতেই শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের কিছু পদ্ধতির সমালোচনা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি নামে একটি নতুন নিয়ম প্রয়োগ করেছে। বেঞ্চ মনে করিয়ে দেয়, বিহারের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকাভুক্ত ভোটারদের কোনও নথির প্রয়োজন ছিল না বলে কমিশনই জানিয়েছিল, কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির হেরফের কেন?

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, বিপুল সংখ্যক নথির যাচাই করতে গিয়ে আধিকারিকদের ভুল হতেই পারে। দিনে হাজার হাজার নথি খতিয়ে দেখতে গেলে সামান্য ত্রুটি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই বাদ পড়া ভোটারদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য একটি শক্তিশালী আপিল ফোরাম (Appellate Forum) থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে শীর্ষ আদালত। ভোটের ঠিক মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisements
Advertisements