ইসরোর মহাকাশ অভিযানে নয়া মাইলফলক, দ্বিতীয় এয়ারড্রপ টেস্ট সফল

ভারতের মহাকাশ অভিযান গগনযান মিশনের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সম্প্রতি ইসরো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে দ্বিতীয় ইন্টিগ্রেটেড এয়ার…

ISRO

ভারতের মহাকাশ অভিযান গগনযান মিশনের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সম্প্রতি ইসরো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে দ্বিতীয় ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ড্রপ টেস্ট (IADT-02), যা ভারতের প্রথম মানববাহী মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Advertisements

এই সফল পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার কাছে অবস্থিত ইসরোর প্রধান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে। এখান থেকেই সাধারণত ভারতের বিভিন্ন উপগ্রহ ও মহাকাশ মিশন উৎক্ষেপণ করা হয়। গগনযান মিশনের এই বিশেষ পরীক্ষা মূলত ক্রু সেফটি সিস্টেম বা মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য পরিচালিত হয়।

   

ইসরো কর্মকর্তাদের মতে, IADT-02 পরীক্ষার সব মূল লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে গগনযান মিশনের জন্য তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ ডেসেলারেশন (গতিবেগ হ্রাস) এবং রিকভারি (পুনরুদ্ধার) সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বা জরুরি পরিস্থিতিতে মহাকাশচারীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গগনযান মিশনের মূল উদ্দেশ্য হল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানববাহী মহাকাশযান পাঠানো এবং সফলভাবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মহাকাশচারীদের স্থাপন করা। এই মিশন সফল হলে ভারত হবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

Advertisements

এই পরীক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রু মডিউলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। মহাকাশযান পৃথিবীতে ফেরার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। সেই সময় সঠিকভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই প্যারাসুট সিস্টেম, ড্র্যাগ রিডাকশন এবং অবতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা ভবিষ্যতে গগনযান মিশনের বাস্তব উৎক্ষেপণে কাজে লাগবে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে মহাকাশচারীদের নিরাপদে উদ্ধার করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

 

Advertisements