হনুমানজিকে না মানলে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ যোগীর

লখনউ: রাজ্যে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কখনও ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন অবৈধ মসজিদ। (Yogi Adityanath)সমাজ বিরোধীদের এনকাউন্টার করার নির্দেশ দেন তিনি। সেই জনপ্রিয়…

yogi-adityanath-hanuman-remark-controversy-india-politics

লখনউ: রাজ্যে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কখনও ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন অবৈধ মসজিদ। (Yogi Adityanath)সমাজ বিরোধীদের এনকাউন্টার করার নির্দেশ দেন তিনি। সেই জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বলেছেন, “ত্রেতাযুগে যখন বজরংবলী অর্থাৎ হনুমানজি ছিলেন, তখন পৃথিবীতে ইসলাম বলে কোনো ধর্মের অস্তিত্বই ছিল না। ভারতে শ্রী রামের অনুগত ভক্ত হনুমানজিকে যারা স্বীকার করতে চান না বা পছন্দ করেন না, তারা যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন।”

Advertisements

হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্যের মূল কথা হলো ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গভীরতা। হিন্দু পুরাণ ও রামায়ণ অনুসারে, ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরামের সহচর হিসেবে হনুমানজি ছিলেন অসীম শক্তি, নিষ্ঠা ও ভক্তির প্রতীক। লঙ্কাদহন, সেতুবন্ধন, সীতা উদ্ধার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

   

আরও দেখুনঃ পর্যটন খাতে ধাক্কা, বন্ধ মিলেনিয়াম পার্ক ও শিপিং জেটি

লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রতিদিন হনুমান চালিসা পাঠ করেন, “জয় শ্রীরাম, জয় বজরংবলী” বলে উচ্চারণ করেন। যোগীজি বলেছেন, এই হনুমানজির চরিত্র যুগ-যুগান্তর ধরে ভারতের আত্মার সঙ্গে জড়িত। ত্রেতাযুগ অনেক প্রাচীনকালের, যেখানে ইসলাম ধর্মের উদ্ভব হয়েছে অনেক পরে, সপ্তম শতাব্দীতে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, ভারতের মাটিতে হনুমানজির মতো দেবতাকে যারা অস্বীকার করেন, তাদের এখানে জোর করে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “এটি ভারতের সনাতন সংস্কৃতি। যারা এই সংস্কৃতিকে মানেন না, তারা অন্য যেকোনো দেশে চলে যেতে পারেন।” এই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতের পরিচয় তার প্রাচীন ঐতিহ্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে এবং কেউ যেন সেটাকে চ্যালেঞ্জ না করে। যোগীর এই মন্তব্যে ফের বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। বিরোধীরা সরাসরি তাকে আক্রমণ করে বলেছেন যোগী আদিত্যনাথ একজন মুখ্যমন্ত্রী তার কাছে সবাই সমান হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু তিনি প্রকাশ্যে মেরুকরণের বার্তা দিচ্ছেন।

Advertisements

একজন মুখ্যমন্ত্রী কখনোই কাউকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলতে পারেন না। বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে যোগী সমর্থকরাও বলেন যে যারা দেশের মধ্যে থেকে দেশ বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে বা দেশ বিরোধী কাজ করছে তাদের এই দেশে কোনও জায়গা নেই। তারা ঊত্তরপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন দেশের মানুষ দেখতেই পাচ্ছেন, যারা দেশ বিরোধী কাজ করার জন্য গ্রেফতার হচ্ছেন তারা কারা এবং তারাই আসলে মেরুকরণের বার্তা দিচ্ছেন দেশ জুড়ে।

Advertisements