রেয়াপাড়া সিদ্ধিনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়ন জমা শুভেন্দুর

পূর্ব মেদিনীপুর: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। (Suvendu Adhikari)এই আবহেই সোমবার সকালে এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে মনোনয়ন…

suvendu-adhikari-nomination-nandigram-reyapara-temple-2026

পূর্ব মেদিনীপুর: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। (Suvendu Adhikari)এই আবহেই সোমবার সকালে এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে তিনি পুজো দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের রেয়াপাড়ার ঐতিহ্যবাহী রেয়াপাড়া সিদ্ধিনাথ মন্দিরে।

Advertisements

সকালের শুরুটা ছিল ধর্মীয় আচার দিয়ে। মন্দিরে পূজা অর্চনা করে নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন শুভেন্দু। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সেখান থেকেই জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতার মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

   

পুজো শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে বেশ কড়া সুরে আক্রমণ শানান প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের প্রাক্তন আইসি-কে নিশানা করে তিনি বলেন, “এখানে আইসি মালটা ছিল আইপ্যাকের। এদের কীভাবে পরিষ্কার করতে হয় আমি জানি।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

আরও দেখুনঃ শ্বেতাকে বাঁচাতে গিয়েই তলিয়ে যান রাহুল? পুলিশের হাতে দুর্ঘটনার এক্সক্লুসিভ ভিডিয়ো

শুভেন্দু আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে কোনওভাবেই আইপ্যাকের প্রভাব থাকতে দেবেন না তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট, এবারের নির্বাচনে তিনি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণকে অন্যতম ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। এরপর রেয়াপাড়া থেকে তিনি রওনা দেন হলদিয়ার মহকুমা শাসকের দফতরের উদ্দেশ্যে, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতা। তাঁদের উপস্থিতি এই মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

Advertisements

উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই দুই কেন্দ্রই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নজরকাড়া। এর আগেই তিনি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছ থেকে দলীয় প্রতীক সংগ্রহ করেছেন, যা তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম আসনটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে, কারণ এটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং উচ্চমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। শুভেন্দুর এই মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Advertisements