জঙ্গি হামলায় আহত পুলিশের ৪ কমান্ডো! চরম হুঁশিয়ারি হিমন্তর

গুয়াহাটি: অসমের তিনসুকিয়া জেলায় ভোররাতে এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত চারজন অসম পুলিশের কমান্ডো আহত হয়েছেন (ULFA attack)। সন্দেহভাজন ইউএলএফএ (আই)-এর উগ্রপন্থীরা রবিবার ভোর ২টার দিকে…

ulfa-attack-assam-police-commandos-tinsukia-rpg-himanta-warning

গুয়াহাটি: অসমের তিনসুকিয়া জেলায় ভোররাতে এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত চারজন অসম পুলিশের কমান্ডো আহত হয়েছেন (ULFA attack)। সন্দেহভাজন ইউএলএফএ (আই)-এর উগ্রপন্থীরা রবিবার ভোর ২টার দিকে জাগুন এলাকায় পুলিশের কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। আক্রমণকারীরা অন্তত ৪-৫টি রকেট প্রপেল্ড গ্রেনেড (আরপিজি) ছুড়ে মারে, যার মধ্যে বেশিরভাগ বিস্ফোরিত হয়ে ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

Advertisements

এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট ধরে গুলি বিনিময় চলে। আহত কমান্ডোদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের দ্রুত দিব্রুগড়ের অসম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।অসম পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক এএনআইকে ফোনে জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা অন্ধকারের আড়ালে পালিয়ে যায়। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

   

আরও দেখুনঃ ১ এপ্রিল থেকে ATM থেকে টাকা তোলার নিয়মে বড় পরিবর্তন

আক্রমণকারীদের ধরতে সেনা, পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। তিনসুকিয়া জেলা এবং আসাম-অরুণাচল সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।এই ঘটনায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সেনা এবং পুলিশ যৌথভাবে কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি অপারেশন শুরু করেছে। যারা এটা করেছে, তাদের অবশ্যই ধরা পড়বে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই কথায় স্পষ্ট যে সরকার এই হামলাকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।জাগুন এলাকা তিনসুকিয়া জেলার ১০ মাইল এলাকায় অবস্থিত, যা অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছে। এখানে পাশ বারুয়াহ নেতৃত্বাধীন ইউএলএফএ (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) গ্রুপের উগ্রপন্থীরা সক্রিয়। এই গ্রুপটি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কার্যক্রম চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এখনও কোনো গ্রুপ আক্রমণের দায় স্বীকার করেনি, তবে পুলিশ এবং নিরাপত্তা সূত্রগুলো ইউএলএফএ (আই)-কে দায়ী করছে।

Advertisements

এই হামলা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ঘটেছে, যখন রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা নির্বাচনী পরিবেশ অস্থির করার চেষ্টা হতে পারে। অতীতে উগ্রপন্থীরা নির্বাচনের আগে এমন হামলা চালিয়েছে। অসম পুলিশ এবং সেনাবাহিনী এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, সন্দেহজনক গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে।

Advertisements