নয়াদিল্লি: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে রাজ্যে অতিরিক্ত ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ এর ফলে মোট বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৪০০ কোম্পানি৷ নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনে এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে৷
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বাহিনীতে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স, স্টেট আর্মড পুলিশ এবং ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা থাকবেন৷ এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল, যারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কাজ করছে।
এবারের ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী পাঁচটি ধাপে রাজ্যে পৌঁছাবে৷ ৩১ মার্চ প্রথম ধাপে ৩০০ কোম্পানি, ৭ এপ্রিল দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০০ কোম্পানি, ১০ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ৩০০ কোম্পানি, ১৩ এপ্রিল চতুর্থ ধাপে ২৭৭ কোম্পানি এবং ১৭ এপ্রিল পঞ্চম ধাপে ৭৪৩ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে প্রবেশ করবে৷
এই বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হবে ভোটকেন্দ্র, স্পর্শকাতর এলাকা, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা৷ পাশাপাশি রুট মার্চের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা৷ প্রতিটি কোম্পানিতে প্রায় ৭২ জন জওয়ান থাকবেন এবং বাহিনীকে ৯টি সেকশনে ভাগ করা হবে৷ এর মধ্যে ৮টি সেকশন ভোটকেন্দ্রে এবং ১টি সেকশন কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে কাজ করবে৷
বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সিআরপিএফ-এর আইজি শলভ মাথুর, যিনি স্টেট ফোর্স কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন৷ বাহিনীর যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে রেলওয়ের সহযোগিতায়৷ রাজ্য সরকারকে বাহিনীর থাকা-খাওয়া, পরিবহন এবং অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে৷
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২৯ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বাহিনীর বড় অংশ রাজ্য থেকে প্রত্যাহার করা হবে৷ তবে প্রায় ২০০ কোম্পানি বাহিনী ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থেকে যাবে৷ পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৫০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে৷ সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে৷
