প্রবীণ-বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বাড়ি বসেই ভোটের ব্যবস্থা কমিশনের

কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Home voting)। এবারও ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ…

home-voting-india-2026-senior-citizens-postal-ballot-rules

কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Home voting)। এবারও ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ ভোটার এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম নাগরিকদের জন্য বাড়িতে বসেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে যাঁদের পক্ষে শারীরিক কারণে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া কঠিন, তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা বড় স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

Advertisements

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পাঁচ দিনের মধ্যে আগ্রহী ভোটার বা তাঁর পরিবারের সদস্যকে ‘ফর্ম ১২ডি’ জমা দিতে হবে। এই আবেদন জমা নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র উপর। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবেন এবং কবে ভোটগ্রহণ হবে, তার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করবেন।

   

আরও দেখুনঃ ভোটের আগে নিউটাউনে কালো টাকার লেনদেন,উদ্ধার ২৫ লক্ষ টাকা

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভোটকর্মীরাই নির্দিষ্ট দিনে ভোটারের বাড়িতে গিয়ে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এতে ভোটারের গোপনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদেরও আগাম এই সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে।

শুধু প্রবীণ বা বিশেষ সক্ষম ভোটাররাই নন, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। দমকল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুৎ, ট্র্যাফিক, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা, বিমান চলাচল, দূরপাল্লার সরকারি পরিবহণ এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের মনোনীত নোডাল অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে।

Advertisements

এছাড়াও, ভোট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের জন্য আলাদা করে ফেসিলিটেশন সেন্টার তৈরি করা হবে। সেখানে তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এই ব্যবস্থার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলেও তাঁরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ও আধাসেনার জওয়ানদের জন্য রয়েছে আধুনিক ইলেকট্রনিক পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা বা ইটিপিবিএস (ETPBS)। এই পদ্ধতিতে রিটার্নিং অফিসার ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যালট পাঠাবেন এবং জওয়ানরা সেটি পূরণ করে ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে ফেরত পাঠাবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পরিষেবার জন্য ভোটারদের কোনও ডাক খরচ বহন করতে হবে না। তবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোট গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে সকাল ৮টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে ব্যালট পৌঁছনো বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছনো ব্যালট গণনায় ধরা হবে না।

Advertisements