বন্দেমাতরমের বিরোধিতা করে নোটিশ জারি মুসলিম ল বোর্ডের

নয়াদিল্লি: মোদী সরকারের সাম্প্রতিক বন্দেমাতরম নিয়ে নির্দেশিকা ছিল সবাইকেই ভারতের রাষ্ট্রগীতি গাইতে হবে (Vande Mataram)। এবার এই ইস্যু নিয়েই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের…

vande-mataram-controversy-muslim-law-board-opposes-government-directive

নয়াদিল্লি: মোদী সরকারের সাম্প্রতিক বন্দেমাতরম নিয়ে নির্দেশিকা ছিল সবাইকেই ভারতের রাষ্ট্রগীতি গাইতে হবে (Vande Mataram)। এবার এই ইস্যু নিয়েই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর আদেশ অনুসারে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণ ছয়টি স্তবক স্কুলের প্রার্থনা সভা এবং সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সঙ্গীত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর আগে গাওয়া হবে এবং শ্রোতাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

Advertisements

এই নির্দেশিকা রাষ্ট্রপতির আগমন-প্রস্থান, ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলন, গভর্নরের ভাষণ, পদ্ম পুরস্কার অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে প্রযোজ্য। স্কুলগুলোতে প্রতিদিনের কাজ শুরু হবে এই সঙ্গীতের সম্মিলিত গান দিয়ে।কিন্তু এই নির্দেশিকা প্রকাশের পরই অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল অ্যান্ড বোর্ড (এআইএমপিএলবি) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্দেশিকা অসাংবিধানিক, ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের বিপরীত।

   

আরও দেখুন: মাথার দাম ৫০ হাজার! যোগীরাজ্যে এনকাউন্টারে খতম কুখ্যাত দুষ্কৃতী আমজাদ

বোর্ড দাবি করেছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণ স্তবকগুলোতে দুর্গা ও অন্যান্য দেব-দেবীর উপাসনা ও বন্দনার উল্লেখ রয়েছে, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুসলমানরা শুধুমাত্র এক ঈশ্বর আল্লাহর উপাসনা করেন, কোনো অংশীদার ছাড়াই। ইসলামে শিরক (ঈশ্বরের সঙ্গে অংশীদার স্থাপন) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই এই সঙ্গীতের পূর্ণ রূপ গাওয়া মুসলিমদের পক্ষে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

Advertisements

এআইএমপিএলবি আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে এই সঙ্গীতের অনেক স্তবক ইসলামের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং আদালতগুলো আগে এর কিছু অংশের গান সীমিত করেছে। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারও ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য শেষ চারটি স্তবক বাদ দিয়েছিল। এখন পূর্ণ ছয় স্তবক বাধ্যতামূলক করা হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে বলে বোর্ড মনে করে।

বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানির নেতৃত্বে এই প্রতিবাদে বলা হয়েছে, এটি সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নিশ্চিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় এআইএমপিএলবি আদালতে এর বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই নির্দেশিকা জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা বাড়ানো এবং দেশপ্রেমের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। সঙ্গীতের ১৫০তম বর্ষপূর্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। জামিয়ত উলামা-ই-হিন্দও এই নির্দেশিকাকে ‘একতরফা ও জবরদস্তিমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে।

Advertisements