আমরা ২, আমাদের ২ ডজন! জনবিস্ফোরণের স্লোগান মিম নেতার

আমরা ২ আমাদের ২ ডজন। ঠিক এভাবেই জন বিস্ফোরণের স্লোগান তুললেন মিম নেতা শওকত আলী (AIMIM leader)। একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন আল্লাহ যদি আপনাকে…

aimim-leader-shaukat-ali-population-slogan-controversy

আমরা ২ আমাদের ২ ডজন। ঠিক এভাবেই জন বিস্ফোরণের স্লোগান তুললেন মিম নেতা শওকত আলী (AIMIM leader)। একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন আল্লাহ যদি আপনাকে সন্তান দেন তাহলে আপনি অস্বীকার করবেন না। তিনি এও বলেন যতক্ষণ সম্ভব সন্তান উৎপাদন করুন। মানুষ কটাক্ষ করে বা চিন্তায় পড়ে যায় মুসলিমদের জনসংখ্যা বাড়ছে বলে কিন্তু তাতে সন্তান উৎপাদন কম হওয়া উচিত নয়।

Advertisements

শওকত বলেন যে দেশের জনসংখ্যা যত বেশি সেই দেশ তত বেশি শক্তিশালী। এই কথা বলেই তিনি চিনের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন, যারা বিবাহ করেননি তারা জ্ঞান দিচ্ছেন বেশি সন্তান উৎপাদন করার জন্য কিন্তু হিন্দু ভাইয়েরা ৪ নয় ১৪ টি করে সন্তান জন্ম দিন। মিম নেতার এই বক্তব্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক এবং সামাজিক তরজা।

   

আরও দেখুন: IPAC শুনানি হল না সুপ্রিম কোর্টে, পরবর্তী শুনানি কবে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ নির্বুদ্ধিতা বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন ভারতের জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে ভারতের মুসলিমরাই দায়ী। সবচেয়ে বড় কথা দেশের জনসংখ্যা বেশি হলে সেই দেশ শক্তিশালী হয় এই ধরণের অপদার্থের মত মন্তব্য মুসলিমরাই করতে পারে। তারা আরও বলেছেন ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থান চিনের মত নয় তাই দু ডজন সন্তান উৎপাদন করলে দেশেরই ক্ষতি।

উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে একটি জনসভায় AIMIM-এর রাজ্য সভাপতি শওকত আলীর এই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে একটি নতুন স্লোগান তুলে ধরেছেন ‘আমরা ২, আমাদের ২ ডজন’ বা ‘হাম দো, হামারে দো ডজন’। এই স্লোগানের মাধ্যমে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে যতটা সম্ভব বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শওকত আলী নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, “আমার ৮টি সন্তান রয়েছে এবং আমার বড় ভাইয়ের ১৬টি সন্তান।

Advertisements

আমাদের মায়ের বয়স এখন ৯৭ বছর, এবং অন্তত ৭২ জন নাতি-নাতনি রয়েছে যারা বিবাহযোগ্য বয়সে পৌঁছেছে।” তিনি আরও যোগ করেছেন যে আল্লাহ যদি সন্তান দেন তাহলে তা অস্বীকার করা উচিত নয়, বরং যতক্ষণ সম্ভব সন্তান উৎপাদন করতে হবে।জনসভায় দাঁড়িয়ে শওকত আলী বলেন, “মানুষ মুসলিমদের জনসংখ্যা বাড়ছে বলে চিন্তিত হয় বা কটাক্ষ করে, কিন্তু তাতে সন্তান উৎপাদন কমানো উচিত নয়।”

শুধু রাজনৈতিক নয় সামাজিক মহলেও এই মন্তব্য যথেষ্ট বিতর্ক তৈরী করেছে। সামাজিক মহলে গুঞ্জন ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক, এবং এর জন্য দায়ী মুসলিম সম্প্রদায়ের উচ্চ জন্মহার। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চিনের মতো নয়। চিনের মতো বিশাল জনসংখ্যা থাকলেও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যা সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করে, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও পরিকাঠামোগত সমস্যা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ‘অপদার্থের মতো’ মন্তব্য শুধু সম্প্রদায়গত বিভেদ বাড়ায় এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

Advertisements