জেলের ভিতরেই খুন রাম মন্দির হামলায় অভিযুক্ত আব্দুল

হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। আয়োধ্যার রাম মন্দিরে হামলার (Ram temple)ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সন্দেহভাজন আব্দুল রহমানকে কারাগারের ভেতরেই খুন করা হয়েছে।…

ram-temple-attack-accused-abdul-rahman-killed-faridabad-jail

হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। আয়োধ্যার রাম মন্দিরে হামলার (Ram temple)ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সন্দেহভাজন আব্দুল রহমানকে কারাগারের ভেতরেই খুন করা হয়েছে। রবিবার রাতে, প্রায় রাত ৮টা নাগাদ বা তার পরে, তাকে আরেক বন্দি অরুণ চৌধুরী মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এই ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের করেছে এবং অভিযুক্ত অরুণ চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Advertisements

আব্দুল রহমান, বয়স মাত্র ২০ বছর, উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার মিলকিপুরের বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ২ মার্চ ফরিদাবাদের পালি গ্রামের কাছে গ্রেপ্তার হন। গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস), হরিয়ানা স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার যৌথ অভিযানে তার কাছ থেকে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।

   

আরও দেখুন: ফিরিয়ে আনা হবে আর্টিকল ৩৭০! হুমকি বিধায়কের

তদন্তকারীরা জানান, রহমান আয়োধ্যার রাম মন্দিরে গ্রেনেড বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি মন্দিরসহ উত্তরপ্রদেশের সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিলেন এবং তথ্য পাকিস্তানের আইএসআই-সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। গ্রেনেডগুলো আইএসআই-এর মাধ্যমে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)-এর নেটওয়ার্ক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রহমান একটি টিউবওয়েল হাউসে লুকিয়ে ছিলেন, যেখানে তিনি তার হ্যান্ডলারের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছিলেন।

এদিকে, অভিযুক্ত অরুণ চৌধুরী জম্মু-কাশ্মীর থেকে সম্প্রতি ফরিদাবাদের নিমকা জেলে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তিনিও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। সেই ঝগড়ার মধ্যেই চৌধুরী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রহমানের মাথায় আঘাত করেন। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে রহমান ঘটনাস্থলেই প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। জেল কর্তৃপক্ষ তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

Advertisements

এই ঘটনা কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে একজন বন্দির কাছে ধারালো অস্ত্র থাকল? জেলের ভেতরে এমন খুন কীভাবে সম্ভব হল? হরিয়ানা পুলিশের মুখপাত্র যশপাল সিং জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষেরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটা শুধু ব্যক্তিগত ঝগড়া নয়, হয়তো তার পেছনে গভীরতর কোনো কারণ আছে। রহমানের আইএসকেপি-আইএসআই সংযোগ এবং চৌধুরীর কাশ্মীরি পটভূমি এসব মিলিয়ে অনেকে এটাকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।

তবে পুলিশ এখনও বলছে, এটা দুই বন্দির মধ্যে ঝগড়ার ফল।আব্দুল রহমানের মৃত্যুতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তিনি যে ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন, তা ভারতের জন্য বড় হুমকি ছিল। রাম মন্দিরের মতো স্থানে হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল গ্রেপ্তারের কারণে। কিন্তু কারাগারের ভেতর তার মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে জেলে বন্দিদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? অন্য বন্দিরা কি এমন ঝুঁকিতে থাকেন?

Advertisements