অশান্ত মনিপুরের নয়া মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে চমক বিজেপির

মণিপুরের অশান্ত রাজনৈতিক আকাশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। (Manipur)বিজেপি বিধায়ক যুমনাম খেমচাঁদ সিংকে দলের বিধানসভা দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি রাজ্যের পরবর্তী…

new-manipur-chief-minister-yumnam-khemchand-singh-bjp

মণিপুরের অশান্ত রাজনৈতিক আকাশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। (Manipur)বিজেপি বিধায়ক যুমনাম খেমচাঁদ সিংকে দলের বিধানসভা দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। গতকাল, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দিল্লিতে বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর ধরে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে থাকা মণিপুরে এই পদক্ষেপ নির্বাচিত সরকার ফিরিয়ে আনার দিকে এক বড় ধাপ।

Advertisements

১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।যুমনাম খেমচাঁদ সিং, ৬২ বছর বয়সী এই নেতা সিংজামেই কেন্দ্র থেকে দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ২০১৭ এবং ২০২২ সালে। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং-এর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭-২০২২ পর্যন্ত তিনি মণিপুর বিধানসভার স্পিকার ছিলেন।

   

আরও দেখুন: ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! চিকেনস নেকে মাটির নীচে রেল করিডর বানাচ্ছে কেন্দ্র

পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে পৌর প্রশাসন ও আবাসন উন্নয়ন, গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ, শিক্ষা এইসব গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দলের মধ্যে প্রভাবশালী অবস্থান তাঁকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।এই নির্বাচনের পটভূমি অত্যন্ত জটিল। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ জাতিগত সংঘর্ষ চলছে।

হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে, গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অশান্তির মধ্যে এন. বীরেন সিং-এর নেতৃত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অনেকে মনে করেন, তাঁর কঠোর নীতি সংঘর্ষকে আরও উস্কে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়, বীরেন সিং পদত্যাগ করেন।

Advertisements

এরপর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নতুন মুখ খুঁজছিলেন, যিনি শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন।খেমচাঁদ সিং-এর নাম এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মেইতেই সম্প্রদায়ের হলেও সাম্প্রতিককালে কুকি-জো শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। উখরুল জেলার লিতান এবং চাসাদ গ্রামে গিয়ে তিনি বাস্তুচ্যুত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছেন, শান্তির বার্তা দিয়েছেন। এটিকে অনেকে মণিপুরে পুনর্মিলনের এক বড় পদক্ষেপ বলে দেখছেন।

বিজেপির ঘোষণা অনুসারে, কাঙ্গপোকপি থেকে কুকি-জো নেত্রী নেমচা কিপজেনকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। তিনি রাজ্যের প্রথম মহিলা এবং প্রথম কুকি-জো উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন। নাগা পিপলস ফ্রন্ট থেকেও একজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বহুমুখী নেতৃত্বের মাধ্যমে সরকার সব সম্প্রদায়কে একত্রিত করতে চাইছে।তবে চ্যালেঞ্জ কম নয়। জাতিগত বিভেদ এখনও গভীর।

কুকি-জো গোষ্ঠীগুলোর অনেকে আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবিতে অনড়। মেইতেইদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে এই সবকিছু সামলাতে হবে। শান্তি ফিরিয়ে আনা, বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এসব কাজে তাঁর দক্ষতা পরীক্ষিত হবে। কংগ্রেস নেতা অঙ্গোমচা বিমল অকোয়জাম এই নিয়োগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে এটি রাজ্যের জন্য নতুন সুযোগ, কিন্তু সত্যিকারের শান্তি আসবে কি না তা সময়ই বলবে।

Advertisements