প্রতিবেশী ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে প্রজাতন্ত্রে বন্ধ আমিষ

ভুবনেশ্বর: কোরাপুট জেলায় প্রজাতন্ত্র দিবসে নন-ভেজিটেরিয়ান (Republic Day)খাবার বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, যা রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। ওড়িশার কোরাপুট জেলার কালেক্টর ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট…

republic-day-non-veg-ban-odisha-koraput

ভুবনেশ্বর: কোরাপুট জেলায় প্রজাতন্ত্র দিবসে নন-ভেজিটেরিয়ান (Republic Day)খাবার বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, যা রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। ওড়িশার কোরাপুট জেলার কালেক্টর ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট মনোজ সত্যবান মহাজন সকল তহসিলদার, ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) এবং এক্সিকিউটিভ অফিসারদের চিঠি লিখে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ২৬ জানুয়ারি ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের দিনে তাদের এলাকায় মাংস, মুরগি, মাছ, ডিমসহ সব ধরনের নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারের বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে।

Advertisements

এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে এটিকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘ধর্মীয় প্রভাবিত’ বলে সমালোচনা করছেন।কালেক্টরের চিঠিতে বলা হয়েছে, “প্রশাসনিক নির্দেশিকা” অনুসারে প্রজাতন্ত্র দিবসকে ‘জাতীয় উৎসব’ হিসেবে পালন করতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।

   

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে কলকাতায় খেলবে এই দেশ, জানাল ICC

তহসিলদার, বিডিও এবং অন্যান্য অফিসারদের নিজ নিজ এলাকায় অফিসিয়াল নোটিফিকেশন জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে দিনভর মাংস, মুরগি, মাছ, ডিম এবং অন্যান্য নন-ভেজ খাবারের বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশ কোরাপুট জেলার সব মার্কেট, দোকান এবং ব্যবসায়ীদের উপর প্রযোজ্য।এই নির্দেশের পর ওড়িশার বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে।

Advertisements

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, প্রজাতন্ত্র দিবস তো একটা জাতীয় উৎসব, এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের কী সম্পর্ক? ওড়িশায় বেশিরভাগ মানুষ মাছ-মাংস খান, এমনকি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এগুলো অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখেছেন, “প্রজাতন্ত্র দিবস কবে থেকে ধর্মীয় উৎসব হয়ে গেল যে আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ?” কেউ কেউ বলছেন, এটা ‘নতুন ভারত’-এর একটা উদাহরণ, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে খাদ্য স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।

কোরাপুট জেলা ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক। এখানকার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে মাছ-মাংস গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞায় তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হবে। অনেক দোকানদার জানিয়েছেন যে, প্রজাতন্ত্র দিবসে ছুটির দিনে নন-ভেজের চাহিদা বাড়ে, কারণ লোকে বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন করে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মনিটরিং করতে হবে, যা আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।রাজনৈতিক মহলে এই নির্দেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিজেপি-সমর্থক কিছু মানুষ এটিকে ‘সত্ত্বিক’ উদযাপনের অংশ বলে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষ বলছেন, এটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রজাতন্ত্র দিবস মানে সবার সমান অধিকার, খাদ্যের অধিকারও তার মধ্যে পড়ে। কেন একটা জাতীয় দিনে এমন নিষেধ?” অনেকে উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য রাজ্যে বা জেলায় এমন নিষেধাজ্ঞা নেই।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অফিসিয়াল ব্যাখ্যা আসেনি কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কিন্তু চিঠিতে ‘প্রশাসনিক নির্দেশিকা’ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতেও আলোচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যেখানে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার রয়েছে। অনেকে বলছেন, এটা একটা উদাহরণ যে কীভাবে প্রশাসনিক স্তরে সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় প্রভাব পড়ছে।

Advertisements