ভারত বিদ্বেষের ফল? বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে শোধ তুলল আদানি

ঢাকা: বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে (Bangladesh)স্থানীয় মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি…

bangladesh-power-crisis-adani-electricity-supply

ঢাকা: বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে (Bangladesh)স্থানীয় মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, আদানি তার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশের দিকে ৪২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, গোড্ডা এক্সপোর্ট পাওয়ার স্টেশনটি “মেরামতের” কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ সরকার এখন পুরো সরবরাহ পুনরায় চালু করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে।

Advertisements

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে, কারণ চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। গ্রীষ্মকাল এলে চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।আদানি পাওয়ারের গোড্ডা প্ল্যান্টের ক্ষমতা প্রায় ১৬০০ মেগাওয়াট। এটি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম ট্রান্সন্যাশনাল পাওয়ার প্রজেক্ট হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ এই প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটা বড় অংশ মেটায়।

   

খড়গপুরের জল-হাওয়ায় একটা…দিলীপ-হিরণের বিয়ে নিয়ে এ কী বললেন কুণাল?

কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পেমেন্ট বকেয়া নিয়ে সমস্যা চলছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আদানি বকেয়া বিলের কারণে সরবরাহ অর্ধেক করে দেয়। পরে বাংলাদেশ কিছু বিল পরিশোধ করলেও পুরোপুরি সমস্যা মেটেনি। ২০২৫ সালে কয়েকবার সরবরাহ কমানো-বাড়ানো হয়েছে, এমনকি কিছু সময় পুরোপুরি বন্ধও হয়েছে। সাম্প্রতিক খবরে বলা হচ্ছে, ৪২৭ মেগাওয়াট কমানোর ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ গ্রিডে চাপ পড়েছে।

Advertisements

প্ল্যান্টের একটা ইউনিট মেরামতের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যদিও অনেকে এটাকে পেমেন্ট বা চুক্তি সংক্রান্ত চাপের অংশ বলে মনে করছেন।বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) এবং সরকারের পক্ষ থেকে আদানির কাছে পুরো সরবরাহ পুনরায় শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু আদানির পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। এদিকে, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত। সরকার বলছে, চাহিদা মেটাতে অন্যান্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু আদানির অবদান অনেক বড় ছিল। ভারত থেকে মোট বিদ্যুৎ আমদানির একটা বড় অংশ এই প্ল্যান্ট থেকে আসে।এই সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক চাপও রয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় বিল পরিশোধে সমস্যা হয়েছে।

২০২৪-২৫ সালে বকেয়া বিলের পরিমাণ ৮০০-৯০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। পরে কিছু পরিশোধ করা হলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়নি। ফলে আদানি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি শুধু পেমেন্টের সমস্যা নয়, বরং চুক্তির শর্ত, কর সুবিধা এবং রাজনৈতিক প্রভাবও জড়িত। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদানির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, এমনকি বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে, বিদ্যুৎ ছাড়া চলছে না।গ্রীষ্মকাল এলে বিদ্যুৎ চাহিদা ১৫-২০% বেড়ে যায়। তখন লোডশেডিং আরও তীব্র হতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে অন্যান্য পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু রাখার চেষ্টা করছে, ফুয়েল অয়েল ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু খরচ অনেক বেশি।

ভারত থেকে আরও বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা চলছে, কিন্তু আদানির মতো বড় উৎস না থাকলে সমস্যা থেকে যাবে। সাম্প্রতিক খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়িয়েছে, কিন্তু আদানির কমানোর প্রভাব এখনও পড়ছে।

Advertisements