মমতার ‘ফাইল ছিনতাই’ ইস্যুতে ধিক্কার জানিয়ে প্রতিবাদ চন্দননগরে

সরকারি তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে দুর্নীতিতে ভরা তথ্য-প্রমাণ ছিনতাই করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং ধিক্কার জানিয়ে আজ চন্দননগর গঞ্জের বাজার…

mamata-banerjee-file-snatching-controversy

সরকারি তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে দুর্নীতিতে ভরা তথ্য-প্রমাণ ছিনতাই করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং ধিক্কার জানিয়ে আজ চন্দননগর গঞ্জের বাজার মোড়ে মিছিল করে ৬টা থেকে ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তা অবরোধ করে উত্তর চন্দননগর মন্ডল সভাপতি তন্ময় দে নেতৃত্বে বিজেপি নেতা কর্মীরা।

Advertisements

এদিন এই বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে ছিলেন হগলির বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ জেলার সহ সভাপতি গোপাল উপাধ্যায় সহ অন্নান্য নেতৃত্বরা। অবরোধ চলাকালীন বিজেপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেয়। আধঘন্টা বাদে অবরোধকারীরা পুলিশি হস্তক্ষেপে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে।

   

ভয়ঙ্কর বিলে আনছে ট্রাম্প! ভারত-চিনের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক

বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং ইডি-র অভিযোগ, তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে যান, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে সন্ধ্যায় হুগলি জেলার চন্দননগরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

Advertisements

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। কয়লা পাচার মামলায় হাওয়ালা লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার সল্টলেকে আই-প্যাক অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। প্রতীক জৈন তৃণমূলের আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং আই-প্যাক দলের নির্বাচনী কৌশল তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

তল্লাশির খবর ছড়াতে না ছড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান। তিনি দাবি করেন যে, ইডি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নথি, প্রার্থী তালিকা, হার্ড ডিস্ক এবং নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কিত তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে। মমতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা কি অমিত শাহের কাজ? আমার দলের সবকিছু নিয়ে নেবে?” তিনি এটাকে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেন।

আধ ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধকারীরা রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান। বিজেপি নেতা তন্ময় দে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই কাজ অসাংবিধানিক এবং দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং জনগণকে সচেতন করছি।” সুরেশ সাউ এবং গোপাল উপাধ্যায়ও একই সুরে মমতা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে আক্রমণ শানান।

Advertisements