কৃষকের দৈনিক আয় ১০ হাজার! বিজেপি শাসিত রাজ্যে চমক

ভারতের কৃষি ব্যবস্থায় যখন ঋণের বোঝা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য দামের অভাব নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময়ে বিজেপি শাসিত…

Chhattisgarh, Farmer Income,Mushroom Farming

ভারতের কৃষি ব্যবস্থায় যখন ঋণের বোঝা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য দামের অভাব নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময়ে বিজেপি শাসিত ছত্তীসগঢ় (Chhattisgarh) থেকে উঠে এল এক ব্যতিক্রমী সাফল্যের গল্প। ছত্তীসগঢ়ের এক কৃষক প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার টাকা নিট আয় করে নজির গড়েছেন। শুধু আর্থিক সাফল্যই নয়, পরিবেশবান্ধব কৃষি ও টেকসই উন্নয়নের এক নতুন মডেলও সামনে এনেছেন তিনি।

Advertisements

এই কৃষকের নাম রাজেন্দ্র কুমার সাহু। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি তিনটি এমএ ডিগ্রির অধিকারী। সাধারণত উচ্চশিক্ষিত যুবকদের কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু রাজেন্দ্র সাহু সেই ধারার বাইরে গিয়ে প্রমাণ করেছেন, আধুনিক জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজে লাগালে কৃষিও হতে পারে লাভজনক এবং সম্মানজনক পেশা।

   

রাজেন্দ্র সাহুর কৃষি মডেলের মূল আকর্ষণ হল ধানের খড় ব্যবহার করে জৈব পদ্ধতিতে প্যাডি স্ট্র মাশরুম বা খড়ের মাশরুম চাষ। ছত্তীসগঢ়ে ধান প্রধান ফসল। ধান কাটার পর বিপুল পরিমাণ খড় জমে থাকে, যা অনেক জায়গায় পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হয়, তেমনি মাটির উর্বরতাও নষ্ট হয়। রাজেন্দ্র সাহু এই সমস্যাকেই সুযোগে পরিণত করেছেন।

তিনি প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ একর জমির ধানের খড় সংগ্রহ করেন এবং তা আমবাগানের নিচে স্তরে স্তরে সাজিয়ে মাশরুম চাষ করেন। এই ইন্টারক্রপিং বা সহচাষ পদ্ধতিতে একই জমিতে একাধিক ফসল থেকে আয় সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি খড়ের বেড থেকে প্রায় ১৫ দিনে এক কেজি করে মাশরুম উৎপাদন হয়। এই মাশরুমের বাজারদর ভালো হওয়ায় মোট খরচ বাদ দিয়ে তাঁর দৈনিক নিট আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে।

Advertisements

সম্প্রতি ‘৩০ স্টেডস’ নামের একটি প্রতিবেদনে রাজেন্দ্র সাহুর এই সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কীভাবে কৃষি বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে তিনি পরিবেশ রক্ষা ও আয়ের দু’টি লক্ষ্যই পূরণ করেছেন। ধানের খড় পোড়ানো বন্ধ হওয়ায় বায়ুদূষণ কমছে, কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে মাশরুম চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের ব্যবহার না থাকায় এটি সম্পূর্ণ জৈব ও স্বাস্থ্যসম্মত।

এই সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই একে ভারতের কৃষির ভবিষ্যৎ মডেল হিসেবে দেখছেন। মন্তব্যে উঠে এসেছে, যদি দেশের অন্তত ১০ লক্ষ কৃষক এই ধরনের টেকসই কৃষি মডেল গ্রহণ করেন, তবে কৃষকদের আয় বহুগুণ বাড়তে পারে এবং স্টাবল বার্নিং বা খড় পোড়ানোর মতো ক্ষতিকর প্রথা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজেন্দ্র সাহুর মডেলটি শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গের মতো ধানপ্রধান রাজ্যগুলিতেও সহজেই প্রয়োগ করা যেতে পারে। সরকারের সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সংযোগ পেলে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। শাসকদল সমর্থকদের দাবি, এটি কৃষক আয় বৃদ্ধির বাস্তব উদাহরণ। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, এমন উদ্যোগকে ব্যতিক্রম না রেখে সার্বিক নীতিতে রূপ দেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে রাজেন্দ্র কুমার সাহুর সাফল্য প্রমাণ করে দিল, সঠিক পরিকল্পনা, শিক্ষার ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব চিন্তাভাবনা থাকলে কৃষি শুধু জীবিকা নয়, লাভজনক ব্যবসাও হতে পারে। এই মডেল যদি বৃহত্তর পরিসরে গ্রহণ করা যায়, তবে তা ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

Advertisements