বাংলাদেশে হিন্দু খুনে বিজেপিকে নিশানা গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের

কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালিদের উপর লাগাতার হামলা, (Violence against Hindu Bengalis)হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। ঠিক সেই সময় বিজেপি ও কেন্দ্রীয়…

dipsita-dhar-calls-protect-minorities-from-islamist-violence-bangladesh

কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালিদের উপর লাগাতার হামলা, (Violence against Hindu Bengalis)হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। ঠিক সেই সময় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশে হিন্দু বাঙালিকে জামাতি সন্ত্রাসবাদীরা পুড়িয়ে মারছে, আর সেই প্রাণ বাঁচাতে যারা ভারতে আসছে, তাদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্র।”

Advertisements

গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বাংলাদেশের হিন্দু বাঙালিরা যখন নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন তাদের ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ওড়িশায়, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে অসম, দিল্লি, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে। পশ্চিমবঙ্গে আবার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষের নাম বাদ যাচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা পরিকল্পিতভাবে হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা।”

   

নাগরিকত্বের নাম ডাকাতি! বিজেপির সঙ্গে ছাড়বে ক্ষিপ্ত মতুয়ারা?

সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জামাতি দাঙ্গাবাজরা মোদীর প্রিয় গুজরাটি শিল্পপতি আদানীর সম্পত্তিতে আগুন দেয়নি, কিন্তু হিন্দু বাঙালির ঘর পুড়িয়েছে।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বাংলা পক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা একাধিক দাবি তুলে ধরেছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই দাবিগুলির কোনওটিই মানেনি বলে অভিযোগ।

Advertisements

গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রথমত, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভারত সরকার তা কার্যকর করেনি। দ্বিতীয়ত, মোদী সরকারের আমলে বাংলাদেশকে দেওয়া প্রায় দশ হাজার একর ভারতীয় জমি ফেরত নেওয়ার দাবি ওঠে, সেটিও মানা হয়নি। তৃতীয়ত, তিস্তা চুক্তি নিয়ে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলার দাবি জানানো হলেও সরকার সে বিষয়ে কোনও ঘোষণা দেয়নি।

চতুর্থ দাবি ছিল, সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালির সুরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ এলাকায় ভারতীয় সেনার সহায়তায় একটি নিরাপদ বলয় গঠন করা। এই প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পঞ্চমত, ভারতের কোনও বন্দর থেকে বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ পাঠানো বন্ধ করার দাবি উঠলেও কেন্দ্র তা মানেনি। ষষ্ঠ ও শেষ দাবি ছিল, সংখ্যালঘু বিদ্বেষী ইউনুস সরকারের গঠনের পর বাংলাদেশকে দেওয়া নদীয়া জেলার ১৬০ একর জমি ফেরত নেওয়া সেই দাবিও উপেক্ষিত।

এই প্রেক্ষাপটে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “পূর্ববঙ্গের হিন্দু বাঙালির পাশে আজ কেউ নেই। না ভারত সরকার, না বিশ্বের কোনও শক্তি। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।” তাঁর দাবি, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকে দিল্লি, ঢাকা এবং বিশ্বের সমস্ত শক্তিকেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম চালাতে হবে।

এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হতে শুরু করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ইস্যু, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক মিলিয়ে আগামী দিনে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এই বিষয় আরও বড় আকার নিতে পারে।

Advertisements