জঙ্গি গড়ার কারিগরের বাড়ি ভাঙার নির্দেশ গেরুয়া সরকারের

ইন্দোর: জঙ্গি গড়ার কারখানা আল ফালাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকির পূর্বপুরুষের বাড়ি ঘিরে নতুন ঝড় উঠেছে। মহো ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তরফ থেকে ইন্দোরের মহোতে অবস্থিত…

al-falah-chairman-house-demolition-notice-indore-mhow

ইন্দোর: জঙ্গি গড়ার কারখানা আল ফালাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকির পূর্বপুরুষের বাড়ি ঘিরে নতুন ঝড় উঠেছে। মহো ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তরফ থেকে ইন্দোরের মহোতে অবস্থিত এই চারতলা বাড়িটিকে অবৈধ নির্মাণ ঘোষণা করে তিন দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নোটিস দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

যদি এই সময়সীমার মধ্যে সিদ্দিকির পরিবার নিজেরাই বাড়ি না ভাঙে তাহলে ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্টের বিধান অনুসারে বোর্ড নিজেই বুলডোজার চালিয়ে জমি খালি করবে এবং খরচ পরিবারের কাছ থেকে আদায় করবে।

   

এই নোটিসটি সিদ্দিকির পরিবারের জন্য শুধু সম্পত্তির ক্ষতি নয়, বরং তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক জীবনে আরও একটি ধাক্কা, বিশেষ করে যখন আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি টেরর ও আর্থিক কেলেঙ্কারির চক্রান্তে ঘিরে আছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১৮ নভেম্বর) থেকে, যখন প্রিন্ফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সিদ্দিকিকে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করে। ফরিদাবাদ-ভিত্তিক আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি, যা গ্রুপটির অন্তর্গত, ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (এনএএসি) অ্যাক্রেডিটেশনের মিথ্যা দাবি করে ছাত্র-অভিভাবকদের প্রতারিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisements

ইডি-র তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ইউনিভার্সিটি ‘ডোনেশন’ ছাড়া ৪১৫.১ কোটি টাকা আয় করেছে, যা ‘অপরাধের ফল’ হিসেবে বিবেচিত। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বোমা বিস্ফোরণ, যাতে ১৩-১৫ জন নিহত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণের প্রধান অভিযুক্ত ড. উমর উন-নাবি এবং তার সহযোগী ড. মুজাম্মিল শাকিল গনাই ও ড. শাহিন শাহিদ সকলেই আল ফালাহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন।

এই টেরর মডিউলের সঙ্গে ইউনিভার্সিটির যোগসূত্র সিদ্দিকির পরিবারকে জাতীয় তদন্তের মধ্যে টেনে এনেছে।মহোর বাড়িটি, যা স্থানীয়ভাবে ‘মৌলানার বাড়ি’ নামে পরিচিত, হাউস নম্বর ১৩৭১, মুকেরি মহল্লায় অবস্থিত। এটি সার্ভে নম্বর ২৪৫/১২৪৫-এ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) বিকাশ কুমার বিষ্ণোই বলেছেন, “এই সম্পত্তি ব্রিটিশ আমলে দেওয়া গ্র্যান্টের অধীনে ছিল, যা কেবল আবাসিক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ১৯৯৫-৯৬ সালে পুনর্নির্মাণের পর সিদ্দিকি মালিকানা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু চারতলা কাঠামো ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্টের বিধান লঙ্ঘন করে।

এটি ডিফেন্স মিনিস্ট্রির জমির উপর অবৈধ নির্মাণ।” বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার এইচ এস কালোয়া জানিয়েছেন, “প্রথম নোটিস ১৯৯৬ এবং ১৯৯৭ সালে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন চূড়ান্ত নোটিস পেস্ট করে দিয়েছি। সাইট ভিজিটে বাড়ি বন্ধ ছিল, কেউ নোটিস নিতে আসেনি। তিন দিন পর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ভাঙচুর শুরু করব।”

সিদ্দিকির পরিবারের এই বাড়িটি তাদের ঐতিহাসিক মূল্যবান সম্পত্তি। জাওয়াদের পিতা, স্বৰ্গত হামাদ আহমেদ সিদ্দিকি, প্রায় দু’দশক ধরে মহোর শহর কাজি ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জাওয়াদ এখান থেকেই আল ফালাহ ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম চালাতেন, যা পরে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। তার ভাই হামুক আহমেদ সিদ্দিকি আল ফাহাদ ফিনকম নামে আরেকটি ফার্ম চালাতেন, যা একাধিক প্রতারণা মামলায় জড়িয়ে পড়ে।

গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) ইন্দোর পুলিশ হায়দ্রাবাদ থেকে হামুককে গ্রেফতার করে, যিনি ২৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি মহোতে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার অভিযুক্ত, যাতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও এমইএস কর্মীসহ অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচটি মামলায় প্রতারণা, দাঙ্গা সহ তার গ্রেফতার হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “এই বাড়িটি কায়াস্থা এলাকার সবচেয়ে পরিচিত স্থান, ২৫টির বেশি জানালা এবং বড় বেসমেন্ট সহ। কিন্তু পরিবার ২০০০-এর দশকের শুরুতে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।”

Advertisements