ঢাকায় ঐতিহাসিক মধুদার ক্যান্টিন ভাঙচুর অজ্ঞাত যুবকের

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে ভাঙচুরের ঘটনা (Madhur Canteen vandalism)দেশজুড়ে ক্ষোভ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে এক অজ্ঞাত যুবক ক্যান্টিনে প্রবেশ…

madhur-canteen-vandalism-dhaka-university

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে ভাঙচুরের ঘটনা (Madhur Canteen vandalism)দেশজুড়ে ক্ষোভ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে এক অজ্ঞাত যুবক ক্যান্টিনে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করতে করতে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি ক্যান্টিনের সামনে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন এবং ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্রে হামলা চালান।

Advertisements

পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম প্রাথমিকভাবে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে করছেন।মধুর ক্যান্টিন শুধু একটি চায়ের দোকান নয় এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানের জীবন্ত স্মৃতি। ১৯২১ সালে মধুসূদন দে (মধুদা) প্রতিষ্ঠিত এই ক্যান্টিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

   

ভাষা আন্দোলনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি সবকিছুর সাক্ষী এই স্থান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটে পাকিস্তানি বাহিনী এখানে হামলা চালায় এবং মধুদাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তারপরও এটি পুনর্নির্মাণ হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আড্ডার প্রতীক হিসেবে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি থেকে শুরু করে ছাত্র আন্দোলনের স্লোগান সবকিছু এখানে মিশে গেছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আরও উদ্বেগজনক। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে সহিংসতা এবং অরাজকতা বেড়েছে। সম্প্রতি মিডিয়া হাউস, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেকে মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা এই ধরনের ঘটনাকে উৎসাহিত করছে।

Advertisements

যদিও এই ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তকে মানসিক রোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবু এটি ঐতিহাসিক স্থানের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাজী নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করতে করতে ভাঙচুর এটি নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার অপব্যবহার বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। নজরুল তো ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তার কবিতাকে এভাবে ব্যবহার করা দুঃখজনক।

Advertisements