মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে ৮.০৮ কেজি ওজনের সোনার বাট কার! প্রশ্ন তুলল বিজেপি

কলকাতা: নির্বাচনী আবহে ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। (Miraj Shah)আয়কর হানার এক বড়সড় ঘটনায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর উপনির্বাচনের অন্যতম প্রস্তাবক তথা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী…

miraj-shah-gold-seizure-8-08kg-west-bengal-it-raid

কলকাতা: নির্বাচনী আবহে ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। (Miraj Shah)আয়কর হানার এক বড়সড় ঘটনায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর উপনির্বাচনের অন্যতম প্রস্তাবক তথা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মিরাজ শাহের বাসভবনে হানা দিয়ে আয়কর দফতর উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ সোনা। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি। বিরোধী শিবির বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে এই বিপুল সম্পত্তির আসল মালিক কে?

Advertisements

সম্প্রতি মিরাজ শাহের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আয়কর আধিকারিকরা ৮.০৮ কেজি ওজনের সোনার বাট উদ্ধার করেছেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। তবে নজরকাড়া বিষয়টি হল, এই সোনার বাটগুলোর গায়ে বিদেশি হলমার্ক রয়েছে। সাধারণত বিদেশি হলমার্ক যুক্ত সোনার বাট আন্তর্জাতিক চোরাচালান বা বড় ধরনের কোনও আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দেয়। মিরাজ শাহের মতো একজন পরিচিত মুখ, যিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন পত্রের প্রস্তাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর ঘর থেকে এমন সম্পদ উদ্ধার হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

   

আরও দেখুনঃ সিআরপিএফ কনস্টেবলের বেতন কত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া কী?

তৃণমূলের দাবি, মিরাজ শাহ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তাঁর নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। আয়কর হানা বা কোনও আইনি পদক্ষেপের সাথে দলের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। বিজেপি এবং বামেদের অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ সোনা আসলে ‘বেনামি’ সম্পত্তি এবং এর নেপথ্যে প্রভাবশালী যোগসূত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন উঠছে, একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর কাছে আট কেজির বেশি বিদেশি সোনার বাট এল কোথা থেকে?

এটি কি নিছকই ব্যবসার সঞ্চয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও গভীর রহস্য? তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, সোনার বাটগুলোতে বিদেশি সিলমোহর থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুল্ক দফতর বা ইডি-র মতো সংস্থাও এই তদন্তে যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বৈধভাবে বিদেশ থেকে সোনা আনতে গেলে যে ধরণের নথি বা ট্যাক্স দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন, মিরাজ শাহ তা দেখাতে পেরেছেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি তিনি এই সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে না পারেন, তবে এর দায়ভার কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

Advertisements

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা নতুন কিছু নয়। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি একের পর এক অভিযোগে শাসক দলের একাধিক নেতা ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা হয় জেল বন্দি নয় জামিনে রয়েছেন। সেই তালিকায় মিরাজ শাহের নাম যুক্ত হওয়া এবং বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকা বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

Advertisements