হিজবুল্লাহ নিধনই কাল হল! ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির আবহের মধ্যেই আচমকা বড়সড় উত্তেজনা তৈরি করল ইরান। (Strait of Hormuz)বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা…

iran-closes-strait-of-hormuz-oil-crisis-middle-east-tension

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির আবহের মধ্যেই আচমকা বড়সড় উত্তেজনা তৈরি করল ইরান। (Strait of Hormuz)বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেয় ইরান।

Advertisements

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদসংস্থা ফার্স নিউস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু পশ্চিম এশিয়াই নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

   

আরও দেখুনঃ কেরালা ব্লাস্টার্সের দায়িত্বে আসতে পারেন এই প্রাক্তন ফুটবলার

ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা। হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলের হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ইরানের দাবি, এই হামলা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। যদিও ইসরায়েলের তরফে বলা হয়েছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি যদি হয়, তবে তা সব ফ্রন্টেই প্রযোজ্য হতে হবে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক মাধ্যমে এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের এক মুহূর্তের জন্যও একা ফেলে রাখা যাবে না।” উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রণালী বন্ধের ঘোষণার আগে দু’টি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইরান সেই সিদ্ধান্ত বদলে সম্পূর্ণভাবে চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়।

Advertisements

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংঘাত নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিতও বহন করছে।

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি তাই আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা, অন্যদিকে তার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা এই দ্বৈত পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের দিকে এই সঙ্কট কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং হরমুজ প্রণালী আবার কবে স্বাভাবিকভাবে খুলবে, সেটাই আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।

Advertisements