রাষ্ট্র সংঘে সন্ত্রাস বিরোধী অবস্থানের ঝুটো বার্তা! আফগানিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ফের ধরা পড়ল পাক জঙ্গি

কাবুল: আফগান নিরাপত্তা বাহিনী নুরিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় একদল (ISIS militants)আইএসআইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। তারা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে জানা…

nuristan-isis-militants-pakistan-border

কাবুল: আফগান নিরাপত্তা বাহিনী নুরিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় একদল (ISIS militants)আইএসআইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। তারা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। ধৃত জঙ্গিদের ক্যামেরার সামনে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তারা দাবি করেছে যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং আফগানিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা চালানোর জন্য পাঠিয়েছিল।

Advertisements

এই ঘটনা পাকিস্তানের জন্য এক বড় বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই সময়েই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী (ISIS militants)অবস্থানের কথা তুলে ধরছেন, পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করছেন। ঠিক এই সময়ে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানে পাক জঙ্গি ধরা পড়ায় বিশ্বের দরবারে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। নুরিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই অভিযান চালানো হয়। আফগান বাহিনীর দাবি, জঙ্গিরা রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

   

আরও দেখুনঃ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সম্মেলন বঙ্গে! পর্যটনে ২৫০০ কোটির বিনিয়োগের সম্ভাবনা

তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। ভিডিওতে তাদের এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।ডুরান্ড লাইন দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বিবাদের কেন্দ্রবিন্দু।

Advertisements

আফগানিস্তান এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না এবং একে বিতর্কিত বলে মনে করে।(ISIS militants) এই অঞ্চলে নিয়মিত সংঘর্ষ ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে থাকে। আফগান কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে পাকিস্তান তার মাটিতে আইএসআইএস-খোরাসান গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছে এবং তাদের আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। এই নতুন ঘটনা সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঠিক এই সময়ে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং আঞ্চলিক শান্তির কথা বলেছেন। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে।

কিন্তু আফগান বাহিনীর এই অভিযান এবং জঙ্গিদের স্বীকারোক্তি (ISIS militants)পাকিস্তানের সেই ন্যারেটিভের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে যে একদিকে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশে জঙ্গি পাঠানোর অভিযোগ উঠছে।এই ঘটনা আফগান-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। আফগান তালেবান সরকার আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করে যে আফগান মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের মতো গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং সেখান থেকে তাদের দেশে হামলা হচ্ছে। এই পারস্পরিক অভিযোগের মাঝে এই নতুন ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Advertisements