Exoplanet: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন। এর ফলে পৃথিবীর বাইরের গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনার বিষয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের প্রাণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত এমন সংকেতের সন্ধান করছেন যা থেকে বোঝা যেতে পারে যে মহাবিশ্বে আমরা একা নই। এই নতুন আবিষ্কার এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
হার্ভার্ড অ্যান্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওরেগনের একটি দল প্রথমবারের মতো সরাসরি একটি এক্সোপ্ল্যানেট (সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহ) থেকে আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছে। উল্লেখ্য যে, এটি ভিনগ্রহের প্রাণীদের কোনো যোগাযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা নয়। যদিও এর আগেও বিভিন্ন গ্রহমণ্ডলীতে রেডিও সংকেত শনাক্ত করা হয়েছিল, তবুও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি যে সংকেতগুলো গ্রহগুলো থেকে আসছিল, নাকি সেই গ্রহগুলো যেসব নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, সেখান থেকে আসছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
‘লাইভ সায়েন্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংকেতটি ওই এক্সোপ্ল্যানেটের অরোরা (মেরুজ্যোতি) থেকে আসে; বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিস্থিতির সাথে আহিত কণাগুলোর মিথস্ক্রিয়া এবং তার ফলে শক্তি নির্গমনের মাধ্যমেই এই অরোরা সৃষ্টি হয়। পৃথিবীতেও মেরুজ্যোতি বা ‘অরোরা’ (aurora) দেখা যায়, যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর আলো হিসেবে পরিচিত। গবেষকদের মতে, যদিও আমাদের সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ এবং কিছু অতি-শীতল বামন নক্ষত্রে (ultra-cool dwarfs) অরোরা-জনিত রেডিও বিস্ফোরণ শনাক্ত করা গেছে, কিন্তু এর আগে কোনো বহির্গ্রহ (exoplanet) থেকে আসা রেডিও সংকেত স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর অর্থ হলো, সংকেতটির উৎস হলো গ্রহটি নিজেই, এর মূল নক্ষত্র নয়।
গবেষক দলের মতে, আমরা ০.৮৫ থেকে ৩.৫ গিগাহার্টজ কম্পাঙ্ক সীমার মধ্যে দ্রুত ও পুনরাবৃত্তিমূলক – এবং উচ্চমাত্রায় বৃত্তাকারভাবে মেরুকৃত (circularly polarized) – বার্স্ট বা সংকেতের ঝাপটা পর্যবেক্ষণ করেছি; সেই সাথে অবিরাম নিঃসরণও লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ‘মিরক্যাট’ (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে চারটি ভিন্ন সময়ে ঠিক এই কম্পাঙ্কগুলোতেই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছিল।
