কলকাতা: রাজ্য প্রশাসনের এককালের অত্যন্ত ক্ষমতাবান শীর্ষ আমলা। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের গুরুদায়িত্ব। মমতার সেই একদা ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজীব সিনহার মুখেই এবার উঠল এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। কোনো রাখঢাক না করে তিনি মেনে নিয়েছেন, সেবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবাধে রিগিং হয়েছিল এবং ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা, প্রতিটি পর্যায়ে চলেছে চরম বেনিয়ম। তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক কাঠামো ও আমলাদের অসহায়তা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক তীব্র ভূকম্পন তৈরি করেছে।
‘কলকাতা থেকে সোজা থানায় অর্ডার যেত, হাত-পা বাঁধা ছিল সচিবদের’
দিনকয়েক আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজীব সিনহা জানিয়েছেন, কমিশনার পদে থাকাকালীন কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে তিনি যখনই জেলাশাসকদের (DM) ফোন করতেন, তাঁরা বলতেন, এসপি কথা শুনছেন না। আবার পুলিশ সুপারকে (SP) ফোন করা হলে উত্তর আসত, থানাগুলোতে সরাসরি কলকাতা থেকে নির্দেশ আসছে। কে সেই নির্দেশ দিত? জানতে চাইলে উত্তর মিলত, ‘স্যার, বুঝে নিন।’
প্রাক্তন এই কমিশনারের আরও দাবি, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব কিংবা ডিজিপি, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে প্রতিদিন বৈঠক বা আলোচনা হলেও তাঁদের কার্যত হাত-পা বাঁধা ছিল। বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁদের সমস্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা প্রয়োগ করার কোনো এক্তিয়ার ছিল না।
‘ক্যামেরা হারিয়ে গিয়েছে বলে এফআইআর করতে বলতাম’
আক্ষেপের সুরে রাজীব সিনহা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে অন্তত দুশোটি মামলার শুনানি করতে হয়েছিল। সেই সময় অভিযোগকারীদের দুর্দশা দেখে তাঁর নিজেরও খারাপ লাগত, কিন্তু হাত বাঁধা থাকায় তিনি সম্পূর্ণ অসহায় ছিলেন। কারণ, জেলা থেকে পাঠানো এসপি ও ডিএম-দের পাঠানো রিপোর্টে আগেই সবকিছুর ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া থাকত। এমনকি জেলা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হতো, ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তখন বাধ্য হয়ে তিনি ক্যামেরা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার পরামর্শ দিতেন।
তৃণমূল যখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে বারবার বিজেপিকে বিঁধছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মমতার সরকারেরই প্রাক্তন এক শীর্ষ আমলার মুখে পঞ্চায়েত ভোটের এই রক্তক্ষয়ী অনিয়ম ও প্রশাসনিক পরাধীনতার ছবি সামনে আসায় শাসক শিবিরের অস্বস্তি যে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
