‘৩০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি’, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে ফের দাবি ট্রাম্পের

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসের সামরিক সংঘাত বড় যুদ্ধে পরিণত হওয়া থেকে তিনি আটকেছিলেন, ফের এমন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প…

trump-claims-saved-30-million-lives-india-pakistan-conflict-2025

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসের সামরিক সংঘাত বড় যুদ্ধে পরিণত হওয়া থেকে তিনি আটকেছিলেন, ফের এমন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থেমেছিল। একইসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে ৩০ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৩ কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা বলেছিলেন বলেও দাবি করেন।

Advertisements

ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমার পর থেকেই একাধিকবার তিনি দাবি করে আসছেন যে, তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং চাপের কারণে দুই দেশ সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছিল। তবে এই ভূমিকার ব্যাখ্যা নিয়ে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

   

‘শেহবাজ আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন’

রাষ্ট্রসংঘে নিজের বিদেশনীতি এবং বিভিন্ন সংঘাত থামানোর ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের প্রসঙ্গ আনেন। তিনি শেহবাজকে ‘দারুণ মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই শেহবাজ তাঁকে ৩০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প আরও বলেন, যেসব দেশের মধ্যে সংঘাত থামাতে তিনি ভূমিকা নিয়েছেন, সেসব দেশের নেতারা তাঁকে চিঠি লিখে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে নিজের প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ঘটনাটিও তুলে ধরেন তিনি।

Advertisements

২০২৫ সালের মে মাসে কী হয়েছিল?

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। এরপর দুই দেশের মধ্যে পাল্টা সামরিক হামলা হয়। পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ১০ মে দুই দেশ সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে তিনি দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থামাতে রাজি করিয়েছিলেন।

পাকিস্তান প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ভারতের অবস্থান আলাদা

তবে ভারত বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছিল এবং তা দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেই হয়েছিল।

ভারতের বিদেশ সচিবের দেওয়া সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন যে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কোনও মধ্যস্থতার আলোচনা হয়নি। এমনকি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সংঘাত বন্ধের কোনও সম্পর্ক ছিল না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছিল। ভারতের বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানের অনুরোধের পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদি পরবর্তীতেও ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন যে ভারত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা কখনও গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির অবস্থান হল, যেকোনও আলোচনা দ্বিপাক্ষিক পথেই হওয়া উচিত।

ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য ঘিরে ফের বিতর্ক

ফলে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব নিয়ে পুরনো বিতর্ক সামনে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প যেখানে নিজের প্রশাসনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন, সেখানে ভারতের সরকারি বক্তব্যে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টিকে দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল।

ট্রাম্পের ২২ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে ‘৩০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচানো’র সংখ্যাটিও তাঁর নিজের বক্তব্যের অংশ। এই সংখ্যার কোনও স্বাধীন যাচাই করা হিসাব রাষ্ট্রসংঘের ভাষণে উপস্থাপন করা হয়নি। তাই এটিকে ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যান হিসেবে নয়।

এখন নজর থাকবে নয়াদিল্লি এই নতুন মন্তব্যের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাত থামার ক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তিন দেশের সরকারি বয়ানের পার্থক্যও ফের আলোচনায় এসেছে।

 

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Advertisements