অজিত আগরকরের বিদায়ের জল্পনা, রোহিত-লক্ষ্মণকে ঘিরে কেন উঠছে প্রশ্ন?

ভারতীয় ক্রিকেটে অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিসিসিআইয়ের পুরুষদের সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আগরকর আর…

ajit-agarkar-exit-speculation-rohit-sharma-vvs-laxman-bcci-selector

ভারতীয় ক্রিকেটে অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিসিসিআইয়ের পুরুষদের সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আগরকর আর মেয়াদ বাড়াতে চাইছেন না বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার পর সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানান, নির্বাচক কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বোর্ডের পদাধিকারীদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

এই পরিস্থিতির পিছনে একাধিক কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে রোহিত শর্মার ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত, সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্য এবং সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে আগরকরের অনুপস্থিতি।

   

তবে এই কারণগুলির অনেকটাই সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে। বিসিসিআই এখনও প্রকাশ্যে আগরকরের বিদায়ের নির্দিষ্ট কারণ ঘোষণা করেনি।

রোহিত শর্মাকে ঘিরে কী হয়েছিল?

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজের আগে ভারতীয় দলের নির্বাচক কমিটি এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে রোহিত শর্মার ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

Advertisements

লর্ডসের তৃতীয় ওয়ানডের পর রোহিতকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত রোহিতকে জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝাকে। রোহিত ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে চান বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এরপর রোহিত তাঁর বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন প্রভাবশালী প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রোহিতের অবসর নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়ার পর বিসিসিআই প্রকাশ্যে একটি বিবৃতি দিয়ে তাঁর অবসরের সম্ভাবনা খারিজ করেছিল। সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই বিবৃতি সম্পর্কে আগরকর আগে থেকে অবগত ছিলেন না এবং বিষয়টি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

তবে এই সময়ের পরেও রোহিত ওয়ানডে দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের দলেও তাঁকে রাখা হয়েছে এবং যশস্বী জয়সওয়ালকে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

যশস্বী জয়সওয়ালকে নিয়ে ছিল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রিপোর্ট অনুযায়ী, আগরকর মনে করছিলেন ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে যশস্বী জয়সওয়ালকে খেলাতে হলে তাঁকে পর্যাপ্ত ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে রোহিতের পক্ষে যুক্তি ছিল, তিনি এখনও ওয়ানডেতে নিয়মিত রান করছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসে তৃতীয় ওয়ানডেতে রোহিতের দুর্দান্ত শতরানও তাঁর জায়গা ধরে রাখার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হয়ে ওঠে। ফলে রোহিতের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন ওপেনার তৈরির প্রয়োজন, এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা নির্বাচকদের সামনে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে মতপার্থক্য

অন্য যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি হল সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে আগরকরের মতপার্থক্য। দুজনেই ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার। কিন্তু চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের ব্যবস্থাপনা এবং ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের ম্যাচের সূচি নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের সূচি সাধারণত সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান এবং ক্রিকেট অপারেশনস টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি হয়। সেই সূচি নিয়েই নির্বাচক কমিটির সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্ডিয়া ‘এ’ সূচি নিয়ে সমস্যা

আগামী সময়ে ইন্ডিয়া ‘এ’-র দুটি টেস্টের সূচি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পুদুচেরিতে হওয়ার কথা। অন্যদিকে ১ থেকে ৫ অক্টোবর শ্রীনগরে রয়েছে ইরানি কাপ। এর পাশাপাশি ২৪ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ‘এ’-র বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ‘এ’-র তিনটি টেস্টের সঙ্গে ভারতের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজের সূচিও আংশিকভাবে মিলে যাচ্ছে। এই ধরনের সূচি নিয়ে নির্বাচক কমিটি এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

চোট পাওয়া কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকাও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। একই সময়ে শীর্ষ ক্রিকেটারদের চোটের একটি বিস্তারিত তালিকা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সেন্টার অফ এক্সেলেন্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

এশিয়ান গেমস নিয়েও ছিল ভিন্ন মত

আগরকর ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে দ্বিতীয় সারির ভারতীয় দল খেলেছিল, কারণ মূল দল তখন ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল।

২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসেও ক্রিকেটের সূচি এবং মূল দলের খেলোয়াড়দের ব্যবহারের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এশিয়ান গেমসের সময় ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ থাকায় একাধিক প্রথম সারির ক্রিকেটারকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়টিও আগরকর এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্যের অন্যতম কারণ ছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, মুম্বইয়ের পর্যালোচনা বৈঠকে আগরকর কোথায়?

৩ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর, টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমন গিল, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ। আগরকরের অনুপস্থিতি তখন বিশেষভাবে নজরে আসে।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া পরে জানিয়েছিলেন, আগরকর শহরের বাইরে থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। তবে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন জল্পনা তৈরি হয়।

এদিকে বিসিসিআইয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নির্বাচক কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পদাধিকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগরকরের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হওয়ার কথা।

আগরকরের মেয়াদে ভারতের সাফল্যও কম নয়

আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির সময় ভারত একাধিক বড় সাফল্য পেয়েছে। তাঁর মেয়াদে ভারত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছয়, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালেও ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরে রাখে। তাই নির্বাচক চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সময়কালের সামগ্রিক সাফল্য থাকা সত্ত্বেও এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কে হতে পারেন পরবর্তী চিফ সিলেক্টর?

বিসিসিআই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করেনি। তবে সাম্প্রতিক রিপোর্টে প্রাক্তন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার পার্থিব প্যাটেলের নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে এসেছে।

অর্থাৎ, আপাতত অজিত আগরকরের বিদায় নিশ্চিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে তাঁর মেয়াদ বাড়বে কি না, তা নিয়ে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ, নির্বাচক কমিটির ভূমিকা এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের সঙ্গে সমন্বয়, আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

Get the Latest Cricket, Asian Games 2026, Football , Hockey, Badminton Scores, F1 Results at Kolkata24x7 Sports. Like Us On Facebook Or Follow Us On Twitter For More Sports Updates.

Advertisements