ভারতের বাজারে ফ্যাক্টরি-ফিটেড সিএনজি (Kia Carens CNG) সংস্করণ আনল কিয়া। সংস্থা কিয়া ক্যারেন্স সিএনজি এবং ক্যারেন্স ক্ল্যাভিস সিএনজি লঞ্চ করেছে। দুই মডেলের দাম যথাক্রমে ১২.১২ লক্ষ টাকা এবং ১২.৩৯ লক্ষ টাকা থেকে শুরু। কয়েক দিন আগেই সোরেন্টোর ভারতীয় লঞ্চের সময় এই দুই সিএনজি মডেলের আগমনের কথা সামনে এনেছিল কিয়া।
দুই গাড়িতেই ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা সিএনজি মোডে ৯৬ এইচপি শক্তি এবং ১২৩ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স।
কোন ভ্যারিয়েন্টে সিএনজি মিলছে?
ক্যারেন্সে সিএনজি অপশন শুধুমাত্র প্রিমিয়াম (ও) ট্রিমে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্যারেন্স ক্ল্যাভিসে সিএনজি বেছে নেওয়া যাবে এইচটিই এবং এইচটিই (ও) ট্রিমে। দুই মডেলের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পেট্রল-ম্যানুয়াল সংস্করণের তুলনায় সিএনজি মডেলের দাম ১ লক্ষ টাকা বেশি।
কিয়া ক্যারেন্স ও ক্যারেন্স ক্ল্যাভিস সিএনজি দাম
| মডেল ও ভ্যারিয়েন্ট | সিএনজি ম্যানুয়াল | পেট্রল ম্যানুয়াল | দামের পার্থক্য |
|---|---|---|---|
| ক্যারেন্স প্রিমিয়াম (ও) | ১২.১২ লক্ষ টাকা | ১১.১২ লক্ষ টাকা | ১ লক্ষ টাকা |
| ক্যারেন্স ক্ল্যাভিস এইচটিই | ১২.৩৯ লক্ষ টাকা | ১১.৩৯ লক্ষ টাকা | ১ লক্ষ টাকা |
| ক্যারেন্স ক্ল্যাভিস এইচটিই (ও) | ১৩.৩৫ লক্ষ টাকা | ১২.৩৫ লক্ষ টাকা | ১ লক্ষ টাকা |
সমস্ত দাম ভারতের এক্স-শোরুম দাম।
মাইলেজ কত হতে পারে?
কিয়া এখনও ক্যারেন্স সিএনজি এবং ক্যারেন্স ক্ল্যাভিস সিএনজির সার্টিফায়েড ফুয়েল এফিসিয়েন্সি প্রকাশ করেনি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, সিএনজিতে দুই গাড়িই প্রতি কেজিতে প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার মাইলেজ দিতে পারে। জ্বালানির খরচ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত এই সংস্করণগুলিকে বাজারে আনা হয়েছে। তবে বাস্তব ব্যবহারে মাইলেজ রাস্তার পরিস্থিতি, গাড়ি চালানোর ধরন, যাত্রী ও মালপত্রের ওজনের মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করবে।
সিএনজি ট্যাঙ্ক কোথায় রাখা হয়েছে?
ক্যারেন্স এবং ক্যারেন্স ক্ল্যাভিস সিএনজি-তে ৬০ লিটারের সিএনজি ট্যাঙ্ক বুটের মেঝের নিচে রাখা হয়েছে। এর ফলে বুট স্পেস ২১৬ লিটার থেকে কমে ১১৬ লিটার হয়েছে। অতিরিক্ত সিএনজি সিস্টেমের কারণে গাড়ির ওজন বাড়ায় কিয়া সাসপেনশনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছে। সামনের ডিস্ক ব্রেকও আপগ্রেড করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, সিএনজিতে গাড়ির পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব কমাতে ইঞ্জিনও নতুন করে ক্যালিব্রেট করা হয়েছে।স্পেয়ার হুইল অবশ্য আগের মতোই গাড়ির আন্ডারবডিতে রাখা হয়েছে।
পেট্রল মডেলের তুলনায় ইঞ্জিনে কতটা পার্থক্য?
সিএনজি সংস্করণে ব্যবহৃত ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ইঞ্জিন থেকে ৯৬ এইচপি শক্তি এবং ১২৩ নিউটন মিটার টর্ক পাওয়া যায়। পেট্রল সংস্করণের তুলনায় সিএনজি মডেলে শক্তি ১৯ এইচপি এবং টর্ক ২১ নিউটন মিটার কম। সিএনজি সংস্করণে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সই একমাত্র ট্রান্সমিশন। পেট্রল মডেলে অবশ্য ক্লাচলেস ম্যানুয়াল বা আইএমটি এবং ডুয়াল-ক্লাচ অটোমেটিক বা ডিসিটি-র বিকল্পও রয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
সিএনজি চালিত এমপিভি হিসেবে ক্যারেন্স ও ক্যারেন্স ক্ল্যাভিসের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে মারুতি এর্টিগা, টয়োটা রুমিয়ন এবং মারুতি এক্সএল৬। মারুতি এর্টিগার সিএনজি সংস্করণের দাম ১০.৯৪ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকার মধ্যে। টয়োটা রুমিয়ন সিএনজির দাম ১১.৬৯ লক্ষ টাকা এবং মারুতি এক্সএল৬ সিএনজির দাম ১২.৬১ লক্ষ টাকা। ফলে কিয়ার নতুন সিএনজি মডেলগুলির দাম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও, ক্যারেন্স ও ক্যারেন্স ক্ল্যাভিসের আকার, কেবিন স্পেস এবং ফিচার প্যাকেজের ভিত্তিতে বাজারে আলাদা জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে সংস্থা।
ক্যারেন্সে সিএনজি প্রথম নয়
ক্যারেন্সে সিএনজি অপশন একেবারে নতুন নয়। এর আগে এই মডেলের জন্য ডিলার-ফিটেড সিএনজি কিট পাওয়া যেত। তবে এবার প্রথমবারের মতো কিয়া ফ্যাক্টরি-ফিটেড সিএনজি সংস্করণ বাজারে এনেছে।
অর্থাৎ, সিএনজি সিস্টেম গাড়ি তৈরির সময়ই সংস্থার কারখানায় ইনস্টল করা হচ্ছে। ফলে আফটারমার্কেট কিটের বদলে সরাসরি প্রস্তুতকারকের সিএনজি সেটআপ পাওয়ার সুবিধা থাকছে ক্রেতাদের জন্য। তুলনামূলক কম জ্বালানি খরচের পাশাপাশি ফ্যাক্টরি-ফিটেড সিএনজি সেটআপ চাওয়া ক্রেতাদের লক্ষ্য করেই ক্যারেন্স এবং ক্যারেন্স ক্ল্যাভিসের নতুন সংস্করণ বাজারে আনল কিয়া।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.
